পরাজয় দিয়ে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে যাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে হেরেছে আফগানিস্তানের কাছে। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১২৭ রান তোলে টাইগাররা। জবাবে ১৮ ওভার ৩ বলে জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান। এই জয়ে তারা এই আসরের সুপার ফোর পর্বে খেলা নিশ্চিত করলো।
বাংলাদেশের দেওয়ার ১২৮ রানের লক্ষ্য ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতে আফগান শিবিরে আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ১১ রান করে সাজঘরে পাঠান স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে। এরপর হজরতউল্লাহ জাজাই ইনিংসকে বড় করার চেষ্টা করলেও মোসাদ্দেকের বলে লেগ বিফোরের কবলে পড়ে ২৩ রান করে মাঠ ছাড়েন। তৃতীয় উইকেট হিসেবে মোহাম্মদ নবী দ্রতু ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে আফগানরা। তবে পরবর্তীতে সে চাপকে জয় করে মাঠ ছাড়েন দুই ব্যাটার ইব্রাহিম জাদরান এবং নাজিবুল্লাহ জাদরান।
এদিন প্রথম থেকেই বাংলাদেশকে ম্যাচে রেখেছিলেন টাইগার বোলাররা। তবে ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে ১৭ এবং ১৮তম ওভারে। প্রথমে মুস্তাফিজ এরপর সাইফউদ্দিনকে কচুকাটা করেছেন আফগান ব্যাটার নাজিবুল্লাহ। ১৭ বলে ৪৩ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। এছাড়া ৪১ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন ইব্রাহিম জাদরান।
বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব, মোসাদ্দেক এবং সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট নেন। মোস্তাফিজ ৩ ওভার বল করে ৩০ রান দিলেও পাননি কোন উইকেট, এছাড়া সাইফউদ্দিন ২ ওভার বল করে দিয়েছেন ২৭ রান।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ । টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। এক চারে ৮ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরত যান দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা নাঈম শেখ। মুজিব-উর-রহমানের বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি।
এই স্পিনার নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ফিরিয়েছেন এনামুল হক বিজয়কে। এই ওপেনার সুইপ করতে গেলে বল প্যাডে লাগে, শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউতে বাঁচতে পারেননি তিনি। ১৪ বল খেলে কেবল ৫ রান করেন বিজয়।
সাকিব আল হাসানকে বেশ সাবলীলই মনে হচ্ছিল। টানা দুই বলে দুই চারও হাঁকিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মুজিবের বলে বোল্ড হয়ে থেমেছে ৯ বলে তার ১১ রানের ইনিংস। এরপর মুশফিকুর রহিমও নিজের ইনিংসকে লম্বা করতে পারেননি।
৪ বলে ১ রান করেন তিনি, এলবিডব্লিউ হন রশিদ খানের বলে। একই দশা হওয়া আফিফ ১৫ বলে ১২ রান করেন। ক্রিজে অনেক্ষণ টিকে থাকলেও নিজের ইনিংসকে অর্থবহ করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রশিদের বলে ইব্রাহিম জাদরানের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ১ চারে ২৭ বলে ২৫ রান করেন তিনি।
বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন মোসাদ্দেক হোসেন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ বলে ৪৮ রান করেন তিনি।