দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩শ’ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে তৃণমূল বিএনপি। আজ প্রার্থীদের নাম ঘোষণার কথা রয়েছে। আজ বুধবার (২৯ শে নভেম্বর) বিকাল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবে দলটি।
তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকার জানিয়েছেন, ৩শ’ আসনের বিপরীতে ৪৯৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের সদ্য নিবন্ধন পাওয়া দলটি ১৮ই নভেম্বর থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে। এরপর ২৪ থেকে ২৬শে নভেম্বর পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীক পেয়ে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাওয়ার তিনদিন পর তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা নাজমুল হুদা মারা যান। এরপর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা হুদা। পরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দলটিতে যোগ দিয়েই চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন শমসের মবিন চৌধুরী এবং মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান তৈমূর আলম খন্দকার।
নাজমুল হুদা তৃণমূল বিএনপি গঠন করেন ২০১৫ সালের শেষ দিকে। তার আগে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করার পর আরও তিনটি দল গঠন করেছিলেন।
২০১২ সালে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ)’ নামে একটি দল গঠন করেন তিনি। পরে সেই দল থেকে তাকে বহিষ্কার করেন দলটির প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।
নাজমুল হুদা ২০১৪ সালের ৭ মে ‘বাংলাদেশ জাতীয় জোট’ নামে একটি জোট গঠন করেন। একই বছরের ২১ নভেম্বর তিনি ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি’ নামে একটি দল গঠন করেন। আরও একটি নতুন দল গঠন করেছিলেন এ রাজনীতিক।
নাজমুল হুদা সবশেষ ‘তৃণমূল বিএনপি’ গঠন করেন ২০১৫ সালের ২০ নভেম্বর। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে দলটি।
সে সময় নিবন্ধন না পাওয়ায় আইনি লড়াইয়ে যায় তৃণমূল বিএনপি। পরে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিবন্ধন দেয়।
২০১৫ সালে শমসের মবিন চৌধুরী বিএনপি থেকে পদত্যাগের পর ২০১৮ সালে বিকল্পধারায় যোগ দেন। নির্বাচনের আগে বিকল্পধারা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়। ওই সময় জোটের মনোনয়ন না পেয়ে সিলেট-৬ আসনে বিকল্পধারার কুলা প্রতীকে নির্বাচনের মাঠে নামলেও পরে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে মহাজোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানান শমসের মবিন।
তৈমূর আলম খন্দকার ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সক্রিয় ছিলেন। এ জন্য মামলা-হামলার শিকার, এমনকি জেলেও থাকতে হয়েছে তাকে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার কারণে দেড় বছর আগে দল থেকে বহিষ্কার হন তৈমূর।
এরপরেও তিনি বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য লিখিত আবেদনও করেন। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি তার সাবেক দল।