মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে যা হলো, তা স্রেফ একটি ব্রোঞ্জ মেডেল ম্যাচ নয়— এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য ম্যাচ হিসেবে চিরকাল মনে থাকবে। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের একচেটিয়া ৪-০ লিড, দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপ্পে ঘূর্ণিঝড়ে ৪-৩, শেষ মিনিটে দেম্বেলের গোলে ৪-৫, তারপর বেলিংহামের শেষ লাথিতে ৪-৬।

মোট ১০টি গোলের এই থ্রিলার শেষে ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করলো, আর এমবাপ্পে লিখলেন বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলের নতুন ইতিহাস। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ১০টি গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও সবার ওপরে আছেন এমবাপ্পে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসি ডিফেন্সকে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। খেলার মাত্র ৩ মিনিটে ডেক্লান রাইসের গোলের পর ১৮ মিনিটে রাইসের অ্যাসিস্ট থেকেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজেরি কনসা। এরপর ৩৭ ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১ মিনিট) যথাক্রমে মার্কাস রাশফোর্ড ও এবেরেচি এজের পাস থেকে জোড়া গোল পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। ১৯৩০ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪ গোলে পিছিয়ে পড়ার চরম তিক্ত স্বাদ পায় ফরাসিরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ফ্রান্স। ৫০তম মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান এমবাপ্পে। চার মিনিট পর এমবাপ্পের পাস থেকেই ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।

৬৬তম মিনিটে আবারও ওলিসের অ্যাসিস্টে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ উন্নীত করেন এবং টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েন।

ফ্রান্স যখন সমতায় ফেরার আশা জাগাচ্ছিল, তখন ৮৪তম মিনিটে ইংল্যান্ড পেনাল্টি পায়। ফরাসি ডিফেন্ডার মালো গ্যুস্তো বক্সের ভেতরে জেড স্পেন্সকে ফাউল করলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। জুড বেলিংহাম নিজে শট না নিয়ে স্পটকিকটি বুকায়ো সাকার হাতে তুলে দেন। ৮৭তম মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্সেনাল উইঙ্গার।

যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে উসমান দেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে আরেকটি গোল করে ব্যবধান ৫-৪-এ নামালেও শেষ মুহূর্তে মাঝমাঠ থেকে একক নৈপুণ্যে বল এগিয়ে নিয়ে ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ গোলটি করেন জুড বেলিংহাম। তার গোলেই ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইংল্যান্ড।

এটি ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর বিশ্বমঞ্চে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।