সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্কে নতুন মোড় এসেছে। তার ফেসবুকে দেওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে নতুন প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিওর কথোপকথনে অসঙ্গতি দেখা গেছে। এমনকি ঘটনাস্থল নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
তার নতুন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তার দাবিকৃত দ্বিতীয় বিয়ে নিয়েও নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের তারিখের সঙ্গে একটি বায়োডাটায় উল্লিখিত বৈবাহিক অবস্থার অসঙ্গতি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ২০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে একটি টেবিলের ওপর রাখা পরিচয়পত্রে ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ এবং ‘১৩তম পার্লামেন্ট’ লেখা দেখা যায়। পরিচয়পত্রে গাজী নজরুল ইসলামের ছবি, নাম এবং সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচয়ও দৃশ্যমান।
ভিডিওতে হট্টগোলের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘দেখেন, সাতক্ষীরার জামায়াতের লোক মেয়েসহ এখানে ধরা খাইছে। এই যে, এই মুরুব্বি।’
ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামকে হাতজোড় করে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের ছেড়ে দেন। আমরা অন্যায় করেছি।’ অন্যদিকে মরিয়ম খাতুনকে তুলনামূলক শান্তভাবে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
ভিডিওতে উল্লেখ করা ‘নীলা’ নামের ওই নারীর পরিচয় বা তার বাড়ির অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি কবে, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। ভিডিওর কথোপকথন থেকে শুধু ধারণা করা যায়, ঘটনাটি ঢাকার কোনো এলাকায় ঘটেছে।
এর আগে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম বেগমকে বিয়ে করেন। ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে তিনি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।
এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি বায়োডাটা, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ১৭ জুন মরিয়ম খাতুনকে তিনি বিয়ে করেন। কিন্তু গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি বায়োডাটায় দেখা যায়, ২২ জুন তারিখে—অর্থাৎ দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পরও—মরিয়ম খাতুনের বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে।
ওই বায়োডাটায় গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরও রয়েছে। স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে- ‘জোর সুপারিশ করছি’। এ কারণে বিয়ের সময়কাল ও নথিপত্রের তথ্য নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি কাবিননামার কপিতে দেখা যায়, তিন লাখ টাকা দেনমোহরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে মো. আবুল হোসেন এবং বেগম মাকসুদা ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিডিও প্রকাশের পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে তার স্বামীর পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে এবং তিনি নিজেও বিষয়টি জানতেন। এ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে মরিয়ম খাতুনও পৃথক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলাম তার বৈধ স্বামী। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে তিনি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।
মরিয়মের বাবা মাছুম বিল্লাহও দাবি করেন, গত ১৭ জুন দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং অনুষ্ঠানে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
এমপির দাবি, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে এবং ভিডিও ফাঁসের পেছনে রয়েছে পারিবারিক বিরোধ ও চাঁদাবাজির চক্র। অন্যদিকে নতুন ভিডিও প্রকাশ, বিয়ের তারিখ, বায়োডাটায় ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ এবং বিভিন্ন নথি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।












