হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক কঠোর শর্ত দিয়েছে ইরান। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ।

শনিবার (৮ আগস্ট) দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশ কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেন।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোনো হুমকি না দেওয়া, ইরান ও অঞ্চলটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ নিঃশর্তভাবে মুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।

তেহরানের এই শর্তের পর হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের সমঝোতা ঝুলে গেছে। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান জানিয়েছে, রুট নির্ধারণ নিয়ে ইতিবাচক পরিবেশে আলোচনা এগোচ্ছে। অন্যদিকে, অচলাবস্থার মাঝেই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি অ্যাডনকের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।

চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা শেষের দিকে চলে এলেও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চুক্তি স্বাক্ষরে ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও শর্ত সাপেক্ষে সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।