ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদেরই কুপোকাত করে নজির গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ডারউইনে প্রথম টেস্টে টানা ১১টি সেশনে সম্পূর্ণ আধিপত্য বজায় রেখে চার দিনের মধ্যেই অজিদের চূর্ণ করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়; এটি দীর্ঘদিনের একটি মানসিক বাধা ভাঙার ঘটনাও।
বাংলাদেশের দাপুটে জয়কে কেউ অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে দেখছে, কেউ বলছে ঘরের মাঠে এটি তাদের সবচেয়ে লজ্জাজনক পরাজয়গুলোর একটি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাটিং, বোলিং, শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা ও দলীয় পরিকল্পনার প্রশংসাও এসেছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সাবেক ক্রিকেটারদের কাছ থেকে।
ম্যাচের চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য প্রাপ্ত সামান্য ৫৭ রানের লক্ষ্য মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে সহজেই স্পর্শ করে বাংলাদেশ। ২২২ রানের পেছনে তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিম দ্রুত বিদায় নিলেও কোনো অঘটন ঘটতে দেননি মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম। মুমিনুলের (৩০*) দুর্দান্ত বাউন্ডারিতে ভর করে বাংলাদেশের বহু প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয়। অপর প্রান্তে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন সাদমান।
এই ঐতিহাসিক জয়ের শক্ত ভিত তৈরি হয়েছিল ম্যাচের প্রথম তিন দিনেই। টাইগার পেসারদের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে প্রথম ইনিংসে অজিরা মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে তানজিদ হাসান তামিমের দারুণ সেঞ্চুরির পাশাপাশি অধিনায়ক শান্ত ও মুমিনুল হকের লড়াকু ফিফটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডে ৪২৬ রানের পাহাড় গড়ে সফরকারীরা। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসেও অজিদের বিপর্যয় অব্যাহত থাকে। চতুর্থ দিনে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই চাপে ফেলেন অফ-স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে দ্রুত সাজঘরে ফেরান তিনি। একদিকে উইকেট পতনের মিছিল চললেও একা লড়াই চালিয়ে ক্যামেরন গ্রিন তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি (১০৪) তুলে নিয়ে অজিদের লিড এনে দেন।
অবশেষে হাসান মাহমুদ সেঞ্চুরিয়ান গ্রিনকে বোল্ড করে ব্রেকথ্রু এনে দেন, যা ছিল ম্যাচে তার ৯ম উইকেট। শেষ ব্যাটার নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ক্যারিয়ারের ১৫তম ‘ফাইফার’ (৫ উইকেট) পূর্ণ করেন মিরাজ। ফলে অজিদের দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায় এবং বাংলাদেশ পায় মামুলি টার্গেট। ২০০৫ সালে কার্ডিফ জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের শক্তিমত্তার নতুন স্মারক এঁকে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।












