পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত পদক্ষেপ ও অব্যবস্থাপনার দরুনই দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি স্থানীয় একটি মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট স্থায়ীভাবে নিরসনে বিএনপি সরকারের আগামী ১০ বছরের একটি বৃহৎ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে, যা আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে এই সংকটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একশ্রেণির সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী রাজপথে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম কিশোরগঞ্জ সফর। সফরকালে পথে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ বাড়াতে পর্যায়ক্রমে সব নদী ও জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই লক্ষ্য অর্জনে দল-মত নির্বিশেষে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২টায় কটিয়াদী উপজেলার কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স সরেজমিনে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর পর তিনি কটিয়াদী আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’-এর মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং মনোনীতদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানসহ পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের জলাশয়ে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্যসম্পদের উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।












