সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ সব শৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজ করছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই দিনে আমাদের নতুন করে অনুধাবন করতে হবে, যদি আমরা শান্তির পথে থাকি, রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবন আদর্শকে অনুসরণ করি এবং মিয়ারে হক হিসেবে রাসূল (সা.) এর সাহাবিদের জীবন আদর্শকে অনুসরণ করি, তাহলে দেশে কোনো অশান্তি-বিশৃঙ্খলা ও অসাম্য থাকবে না।

তিনি বলেন, যদি আমরা ইসলামের শান্তির মহাবাণী অনুসরণ করি, তাহলে বিশ্বে কোনো যুদ্ধবিগ্রহ থাকে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়, অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা হয় এবং সমাজে কোনো শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটে না। কিন্তু আমরা সেই বাণী, সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছি।

রংপুরে চার খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনাতেও অপরাধ সংঘটনের যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। জাতীয়ভাবে আলোচিত বা অনালোচিত প্রতিটি অপরাধের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্তদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতেও সহযোগিতা করা হয়েছে।

‘এত অল্প সময়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা ঠিক হবে না’ মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীকে জনগণের প্রত্যাশিত ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীতে পরিণত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রেও আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাদের জবাবদিহিতা ও অ্যাকাউন্টেবিলিটি নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার, অ্যাওয়ার্ড ও সনদ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন কেউ আশা করতে পারেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করা হবে, যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, সরকার জনগণের সঙ্গে আছে।’

ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সবার জন্য অনুসরণীয়। তাঁর শিক্ষা হলো শান্তি, ক্ষমা, ধৈর্য, সাম্য, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তাঁর আদর্শের অন্যতম শিক্ষা। সেই আদর্শ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।