রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান হায়দার। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা এবং বহুমুখী সহযোগিতার বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
রাষ্ট্রপতি হাই কমিশনারকে স্বাগত জানান এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর অভিনন্দন বার্তা পাঠানোর জন্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারিকে ধন্যবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি তাকে পাকিস্তান সফরের যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তার জবাবে তিনি জানান যে সুবিধাজনক সময়ে তিনি এই সফর করতে আগ্রহী।
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান অভিন্ন ইতিহাস, ধর্মবিশ্বাস, এবং সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, এই বন্ধনগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিকভাবে লাভজনক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।
তিনি স্বাস্থ্য খাত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদানসহ সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বৈঠকে ওষুধ শিল্প, সিরামিক এবং কৃষির মতো অন্যান্য খাত নিয়েও আলোচনা করা হয়।
হাই কমিশনার তাকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে চিকিৎসা-পর্যটন (সবফরপধষ ঃড়ঁৎরংস) বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও রোগীদের চিকিৎসার খরচ কমানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাদের বাংলাদেশি সমকক্ষদের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’-এর আওতায় প্রায় ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়েছে এবং বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যও প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হচ্ছে।
সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগের বিষয়ে হাই কমিশনার ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন রুট চালুর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেন যে, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাই কমিশনার হায়দার উল্লেখ করেন যে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিপুল অব্যবহৃত সম্ভাবনা রয়েছে, যা উভয় পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব। তিনি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতা সম্প্রসারণে পাকিস্তানের নেতৃত্বের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উভয় পক্ষ বিদ্যমান ইতিবাচক গতিধারাকে এগিয়ে নিতে এবং আরও নিবিড় ও ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে।












