আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত থেকেই দেশের শিল্প-কলকারখানায় ‘আগের মতো’ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী—এমনটাই জানিয়েছেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশের প্রথম সারির ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভাটি প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সভা শেষে ব্যবসায়ী নেতারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।
ফজলুল হক বলেন, ‘সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ জ্বালানি সমস্যায় কমবেশি ভুগছিলেন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট হওয়ার আগে যে অবস্থায় ছিল, আগামীকাল রাত থেকে সেই অবস্থায় ফিরে যেতে পারবেন বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।’
সভায় আগামী দিনে দেশে কীভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন হবে, তার একটি পরিষ্কার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক। তার মতে, এর মাধ্যমে শুধু চলমান সংকটের সমাধান নয়, শিল্পের বিকাশ ও বিনিয়োগের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে।
জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকারের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়েও ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, সভায় কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ক্ষেত্রে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তিনটি এবং পরে আরো দুটি; মোট পাঁচটি এফএসআরইউ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার। ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় এফএসআরইউ-এর কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে, যাতে গ্যাসের সমস্যার সমাধান করা যায়।
গ্যাসের ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, আমরা যদি উদাহরণ হিসেবে দেখি গ্যাসের ক্ষেত্রে, আমরা ইতিমধ্যে জানি যে দুটি এফএসআরইউ থাকার কারণে আমাদের একটা ডিপেন্ডেন্স তৈরি হয়েছে এবং তার মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ছিল।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শুধু সেটি রিপেয়ারই করছে না, সামনের দিনগুলোতে কীভাবে এফএসআরইউর সংখ্যা বাড়ানো যায়, প্রাথমিকভাবে তিনটি এবং তারপর আরও দুটি—অর্থাৎ পাঁচটি করে দেওয়া যায়, সে জন্য একটি কার্যকর লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হচ্ছে। আগামী ২০২৮ সাল শুরুর আগেই চেষ্টা করা হচ্ছে তৃতীয় এফএসআরইউটি সম্পৃক্ত করার জন্য, যার মাধ্যমে আমাদের গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে।
বৈঠকে এফবিসিসিআই, আইসিসিবি, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ ২১টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টাও উপস্থিত ছিলেন।












