নটিংহাম টেস্টে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ২-০ ম্যাচে এগিয়ে গেল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫ উইকেটে জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ডের ছুড়ে দেয়া ২৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নটিংহ্যাম টেস্টের পঞ্চম দিনে চা-বিরতির আগে ৯৩ রান তুলতেই চার উইকেট নেই ইংল্যান্ডের। জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ২০৫ রান। হাতে ছয় উইকেট ও এক সেশন। নিশ্চিতভাবেই ড্রয়ের দিকে যাচ্ছিল সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি। কিন্তু বেয়ারস্টোর টি-টোয়েন্টি গতিতে সেঞ্চুরি ও বেন স্টোকসের হার না মানা ৭৫ রান দলকে এনে দিয়েছে অবিস্মরণীয় এক জয়।

লর্ডসে কিউইদের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ ছিল ১৩২ রান। এরপর ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ১৪১ রান করতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৫ রান করার পর ২৭৭ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয় স্বাগতিকদের। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে সাবেক অধিনায়ক জো রুটের সেঞ্চুরির সুবাদে মাত্র ৫ উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।

আজ দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিনে মঙ্গলবার (১৪ জুন) পঞ্চম দিনে ২৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড। ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি আর ম্যাট হেনরির তোপে পড়ে মাত্র ৯৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর ইংল্যান্ডের পরাজয়ের শঙ্কাই যেন উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন বেয়ারেস্টো আর স্টোকস জুটি।

শেষ বিকেলে চা বিরতির পর ২৭ ওভারে দরকার ছিল ১২০ এর বেশি রান। তখন কেউ খেলা দেখে থাকলে নিশ্চিত দ্বিধায় পড়তেন টেস্ট নাকি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ চলছে। স্টোকস একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তে ঝড় তোলেন বেয়ারেস্টো। টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাট করে দলের জয়কে আরও কাছে নিয়ে আসেন। যদিও জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে আউট হয়ে যান বেয়ারেস্টো। তবে আউট হওয়ার আগে মাত্র ৯২ বলে ১৩৬ রানের অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন বেয়ারেস্টো।

বেয়ারেস্টো সাজঘরে ফিরলেও নাটাই ধরে রাখেন অধিনায়ক স্টোকস। ইংলিশ অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৭০ বলে ৭৫ রানে। এছাড়া বেন ফোকস অপরাজিত ছিলেন ১২ রানে। ইংল্যান্ডের জয় পাঁচ উইকেটে।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৯ রানের বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার জ্যাক ক্রাউলিকে হারায় ইংল্যান্ড। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে আরেক ওপেনার অ্যালেক্স লিস ৪৪ রান করতে পেরেছিলেন। ব্যর্থ হন বিশ্বসেরা ব্যাটার জো রুটও। বোল্টের শিকার হওয়ার আগে করতে পেরেছেন কেবল ৩ রান।

ট্রেন্ট ব্রিজে দুদলের লড়াইটা চলছিল সমানে সমান। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের করা ৫৫৩ রানের জবাব দারুণভাবেই দেয় স্বাগতিকরা। তবে চতুর্থ দিন ইংল্যান্ড শুরু করেছিল ৫ উইকেটে ৪৭৩ রান নিয়ে। এরপর মাত্র ২৩ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ৫৩৯ রানে থামে ইংল্যান্ড। যার ফলে ১৪ রানের লিড পেয়ে যায় সফরকারীরা।

১৪ রানের লিড নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ওভারেই অধিনায়ক টম ল্যাথামের উইকেট হারিয়ে বসে নিউজিল্যান্ড। জেমস অ্যান্ডারসনের ইনসুইং বলে বোল্ড হন ল্যাথাম। যে উইকেট পেয়েই ইতিহাসে নাম লেখান অ্যান্ডারসন। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম পেসার হিসেবে ৬৫০ উইকেট পান বুড়ো অ্যান্ডারসন।

অধিনায়ককে হারানোর পর ডেভন কনওয়ে ও উইল ইয়ং দ্বিতীয় উইকেটে ১০০ রান যোগ করেন। ৫২ রান করেন কনওয়ে। ৫৬ রানের ইনিংস আসে উইল ইয়ংয়ের ব্যাট থেকে। কিন্তু এরপর ২৭ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত সফরকারীদের লিড দাঁড়ায় ২৯৯ রানে। এদিকে ট্রেন্ট ব্রিজে ১২৩ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথম, যেখানে দুদলের প্রথম ইনিংসের রানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৯২।