বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হওয়ায় প্রায় তিন মাস পর জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু হয়েছে আজ মঙ্গলবার (২৭শে সেপ্টেম্বর)। টানা তিনদিনের এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে এরইমধ্যে টোকিও পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিদেশী অনেক অতিথি। অনুষ্ঠানে ৫০ জন সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রপ্র্রধানসহ প্রায় ৭শ জন বিদেশি অতিথির অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
দেশি-বিদেশী অতিথিদের নিরাপত্তায় রাজধানী টোকিওজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর ২০ হাজার সদস্য। জাপানে ব্যাপক মূল্যস্ফীতির মধ্যে জাঁকজমক ও ব্যয়বহুল এ অনুষ্ঠানের বিরোধীতা করে গেল কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করছে দেশটির জনগণ।
বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) নেতারাও আবের শেষকৃত্যে যোগ দিতে প্রস্তুত। তবে নিজ দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জাপান সফর বাতিল করেছেন। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে রাজধানী টোকিওতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিপ্পন বুডোকান হলের আশেপাশে যেখানে অনুষ্ঠানটি হবে সেখানকার নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে ২০ হাজার পুলিশ। খরচ হচ্ছে প্রায় ১ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ইয়েন। যা ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যের খরচের চেয়েও বেশি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ও তার পূর্বসূরি ইয়োশিহিদে সুগা। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে দেশটির বহু নাগরিক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে ফুল হাতে অপেক্ষা করছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর ২টায় শেষকৃত্যানুষ্ঠান শুরু হবে। এসময় আবের দেহভস্ম নির্ধারিত ভেন্যুতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে একজন অনার গার্ড কামান থেকে ১৯ রাউন্ড গোলাবর্ষণ করবেন।
এদিকে, আবের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংসদ ভবন ও অন্যান্য স্থানে সমাবেশ করেছেন। অনুষ্ঠানটি বাতিলের জন্য মামলাও করেছেন তারা।
গত ৫৫ বছরের মধ্যে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ খরচ করে বিদায় জানাচ্ছে জাপান। সমালোচকরা এমন আইনের কোনো ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন।
এর আগে ১৯৬৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইয়োশিদাকে এমন সম্মাননা জানিয়ে বিদায় দেওয়া হয়। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তিনি জাপানকে পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
গত ৮ জুলাই পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারায় নির্বাচনী প্রচারের বক্তৃতার সময় এক বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হন আবে। ওই ঘটনার চার দিন পর ব্যক্তিগতভাবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করা হয় ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রী থাকা আবের। তার মৃতদেহ দাহ করা হয়েছে।