বিএনপির আন্দোলনের ‘বেলুনে’ বাতাস ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বাংলাদেশকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার যে ষড়যন্ত্র বিএনপি করছে, তা দেশের মানুষ সফল হতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর এলজিইডি মিলনায়তনে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, কোন নির্বাচনে অংশ নিতে না দিয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দলটির কর্মীদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে। কিন্তু আগামী নির্বাচনের পর তাদের সেই বাহিনী ছোট হয়ে যাবে।

তারেক রহমান বিএনপিকে তার একটি ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, “তাদের নেতাদের কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে চান না তিনি। আগামী নির্বাচনের পর বুঝতে পারবে, এই লাঠিয়াল বাহিনী ছোটো হয়ে গেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নীতি হচ্ছে, যতদিন তিনি ইলেকশন করতে পারবেন না ততদিন বিএনপির কেউ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার পদেও নির্বাচন করতে পারবেন না।

“বিএনপি এখন আবার ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছেন, নির্বাচনে গেলে তাদের কোনো সম্ভাবনা নাই, এজন্য নির্বাচন বানচাল করার পথ বেছে নিয়েছেন তারা।”

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আগামী নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব বুঝতে পারবে, তারা নির্বাচন বর্জন করলেও বিএনপির নেতারা অনেকেই নির্বাচন বর্জন করবেন না। নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণই হচ্ছে মুখ্য, নির্বাচনে যদি মানুষ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে সেখানে কোন দল অংশগ্রহণ করলো সেটি মুখ্য নয়।

“সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি বর্জন করেছিল, তাদের কোনো নেতাকে ইলেকশন করতে দেয় নাই, এরপরও অনেকে করেছে এবং ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ৩০-৪০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়। আমাদের এখানে নির্বাচন বিরোধিতা এবং এত অপপ্রচারের পরও ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।”

জনগণ অংশগ্রহণ করছে কিনা– আগামী নির্বাচনে সেটিই মুখ্য হবে মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, “সেখানে বিএনপি নেতারা কিংবা বিএনপি অংশগ্রহণ করল কিনা সেটি মুখ্য বিষয় নয়। কেউ নির্বাচনে আসুক বা না আসুক জনগণের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও অবাধ সুন্দর আগামী নির্বাচন হবে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা পরপর চারবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন এই দেশে।”

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পেয়ারুল ইসলাম।