২০১৯ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে নাটকীয় এক ফাইনালে বাউন্ডারির হিসেবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১২তম আসরের শিরোপা ঘরে তুলেছিল ইংল্যান্ড। ওই ম্যাচে সমান লড়াই করেও সমীকরণে পিছিয়ে পড়ে হতাশায় ডুবে ছিল কিউইরা। এবার ওই হারের মধুর প্রতিশোধ ২০২৩ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই নিয়েছে ব্ল্যাক-ক্যাপসরা।
এদিন ইংল্যান্ডের দেয়া ২৮৩ রানের লক্ষ্য ডেভন কনওয়ে ও রাচিন রবীন্দ্রর জোড়া সেঞ্চুরিতে অনায়াসেই টপকেছে কিউই দল। ভারতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী খেলায় ৯ উইকেটের জয়ে দারুণ সূচনা করেছে কিউইরা।
বৃহস্পতিবার ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। ওপেনিং জুটিতে ৪০ রানের ভালো জুটি পেলেও পরে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে তারা। ওপেনার ডেডিভ মালান ১৪ ও জনি বেয়ারস্টো ৩৩ রান করে ক্যাচ দেন। তারা বিদায় নিলে চারে নামা হ্যারি ব্রুক ২৫ রান যোগ করেন। এরপর মঈন আলী ১১ রান করে ফেরেন।
দলের হয়ে সেরা জুটি দেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুট ও জস বাটলার। তারা ৭৮ রান যোগ করেন। পাঁচে নামা অধিনায়ক বাটলার ৪২ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ৪৩ রান করে আউট হন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন জো রুট। তিনি ৮৬ বল খেলে চারটি চার ও এক ছক্কায় ওই রান করেন। এরপর লিয়াম লিভিংস্টোন (২০) ও স্যাম কারেন (১৪), আদিল রশিদ (১৫) ও মার্ক উডের (১৩) ছোট ছোট সংগ্রহে লড়াই করার জন্য ৯ উইকেটে ২৮২ রানের পুঁজি পায়।
রান তাড়ায় নেমে দলীয় ১০ রানেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। গোল্ডেন ডাক মেরে স্যাম কারানের শিকার হন ওপেনার উইল ইয়াং। পরের গল্পটা কেবলই কনওয়ে-রাচিন ও ইংলিশ বোলারদের হতাশার।
দ্বিতীয় উইকেটে রাচিনকে সঙ্গে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ২৭৩ রানের জুটি গড়েন কনওয়ে। বিশ্বকাপ তো বটেই ওয়ানডেতে দ্বিতীয় উইকেটে এটাই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানের জুটি। পঞ্চম সেঞ্চুরি ও ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে ১২১ বলে ১৯ চার ও ৩ ছক্কায় ১৫২ রানে অপরাজিত থাকেন কনওয়ে।
অন্যদিকে কনওয়ের সেঞ্চুরির রেশ কাটতে না কাটতেই ব্যাক টু ব্যাক নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে তিনে নামা রাচিন রবিন্দ্রও হাঁকিয়ে বসেন নিখুঁত নৈপুণ্যে সাজানো এক সেঞ্চুরি। দুর্দান্ত সেই সেঞ্চুরিটি ৮২ বলে হাঁকিয়েছেন রবিন্দ্র। যেখানে ছিল তার ৯ চার ও দুই ছক্কার মার।
এরপর কিউইদের জন্য জয়টা ছিল কেবলই অপেক্ষার। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৮২ বল বাকি থাকতেই ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে তারা।
এর আগে টস জিতে আগে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ের নিমন্ত্রণ দেয় নিউজিল্যান্ড। সর্বোচ্চ ৭৭ রান করা জো রুট ছাড়া বাকি ব্যাটাররা যে হতাশ করবেন, তা হয়তো আগেই আন্দাজ করে ফেলেছিলেন সমর্থকরা। তাই তো এক লাখেরও বেশি আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়ামের অর্ধেকের বেশি চেয়ারই ছিল ফাঁকা।
শুরুতে অবশ্য ভালোই ইঙ্গিত দিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু অষ্টম ওভারে গিয়ে দলীয় ৪০ রানে তাদের ওপেনিং জুটি ভাঙেন ম্যাট হেনরি। ডানহাতি এই পেসারের বলে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন দাভিদ মালান। এরপর একপ্রান্ত থেকে কেবল আসা যাওয়ার মিছিল চলতে থাকে। জনি বেয়ারস্টো (৩৩), হ্যারি ব্রুক (২৫) ও মঈন আলী (১১) কেউই থিতু হতে পারেননি লম্বা সময়ের জন্য।
অপর প্রান্তে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে যান রুট। অধিনায়ক জস বাটলারকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৭০ রানের জুটি গড়েন তিনি। তবে নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান হেনরি। তার শরীর তাক করা বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বাটলার। ৪২ বলে দুই চার ও দুই ছক্কায় ৪৩ রান করে ফেরেন তিনি।
বাটলার চলে যাওয়ার পর রুটের দায়িত্ব ছিল ইনিংস শেষ করে আসা। কিন্তু সেই পথে বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনি। অখ্যাত স্পিনার গ্লেন ফিলিপসকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেন নিজের স্টাম্প। ক্যারিয়ারের ৩৭তম ফিফটিতে ৮৬ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৭৭ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
তবে ব্যক্তিগত ৭৭ রানে রুটের বিদায়ের পরপরই বড় সংগ্রহের স্বপ্ন থেকে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড। শেষ দিকে লিয়াম লিভিংস্টোনের ২০, ওডের ১৩ ও আদিল রশিদের ১৫ রানের সুবাদে ২৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় ইংলিশরা।
এদিন ইংল্যান্ডের সব ব্যাটারই ছুঁয়েছেন দুই অঙ্ক। এক অঙ্কের রান করে ইংলিশদের কোনো ব্যাটারই প্যাভিলিয়নে ফেরেননি। যা কি না ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এবারই প্রথম।
ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে এবারের বিশ্বকাপের রানের খাতা খোলেন জনি বেয়ারস্টো। শুরুর সেই আগ্রাসী মনোভাব ধরে রেখে ব্যাটিং করতে থাকেন বেয়ারস্টো। তবে আরেক ওপেনার ডেভিড মালান কিছুটা ধীরে-সুস্থে ব্যাটিং করতে থাকেন। এরপর জনি বেয়ারস্টো ৩৩ ও মালান থামেন ১৪ রানে।
তিনে নেমে দলীয় সর্বোচ্চ ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন জো রুট। এরপর হ্যারি ব্রুক ২৫, মঈন আলী ১১, জস বাটলার ৪৩, লিয়াম লিভিংস্টোন ২০, স্যাম কারান ১৪, ক্রিস ওকস ১১, আদিল রশিদ ১৫* এবং মার্ক উড অপরাজিত ১৩ রানের ইনিংস খেলেন।
কিউইদের হয়ে হেনরি ৩টি, স্যাটনার ও ফিলিপস দুটি এবং বোল্ট ও রাচিন রবিন্দ্র একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।