ক্ষুধা সূচকে পাঁচ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১২৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮১তম, স্কোর ১৯। একটি দেশে অপুষ্টির মাত্রা, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের উচ্চতা অনুযায়ী কম ওজন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের বয়স অনুযায়ী কম উচ্চতা এবং শিশুমৃত্যুর হার হিসাব করে ক্ষুধার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বৈশ্বিক, আঞ্চলিক বা জাতীয়—যে কোনো পর্যায়ে ক্ষুধার মাত্রা নির্ণয় করতে এই সূচকগুলো ব্যবহার করা হয়।
সম্প্রতি কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ও ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে চলতি বছরের ‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচক’ প্রকাশ করেছে। অপুষ্টির হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশুর হার, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার- এই চারটি মাপকাঠিতে প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি বিচার করে তৈরি করা হয় বিশ্ব ক্ষুধা সূচক। এই সূচকে সবচেয়ে ভালো স্কোর হল শূন্য। আর সবচেয়ে খারাপ স্কোর হলো ১০০। স্কোর বাড়লে ক্ষুধা পরিস্থিতির অবনতি, আর কমলে পরিস্থিতির উন্নতি।
স্কোরের মধ্যে দেশগুলোর অবস্থানকে পাঁচটি ধাপে ভাগ করে খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতি বোঝানো হয়- পয়েন্ট ৫০ এর বেশি হলে ‘অতি উদ্বেগজনক’, ৩৫ থেকে ৪৯.৯ এর মধ্যে থাকলে ‘উদ্বেগজনক’, ২০ থেকে ৩৪.৯ এর মধ্যে থাকলে ‘গুরুতর’, ১০ থেকে ১৯.৯ এর মধ্যে থাকলে ‘মাঝারি’ এবং পয়েন্ট ৯.৯৯ এর নিচে হলে পরিস্থিতি ‘নিম্ন’।
এই স্কোরে বাংলাদেশের পয়েন্ট ১৯, যা গত বছর ছিলো ১৯.১। যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান মাঝারি অর্থাৎ ক্ষুধার সংকট মাঝারি পর্যায়ে। ১২৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশর অবস্থান ৮১তম। যা গতবছর ছিলো ৭৬তম।
ক্ষুধার সূচকে আঞ্চলিক পর্যায়েও বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। স্কোরের দিক দিয়ে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার ও আফগানিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে বাংলাদেশ।
এবারের সূচকে সবচেয়ে কম ক্ষুধার শীর্ষ দেশ দেশ হলো- বেলারুশ, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, চিলি, চীন, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, হাঙ্গেরি, কুয়েত ও লাটভিয়া।