আজ ২৬শে জানুয়ারি ভারতের ৭৫তম প্রজাতন্ত্র দিবস। দেশভাগের ফলে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত হবার তিন বছর পর ১৯৫০ সালে আজকের দিনেই কার্যকর হয়েছিল দেশটির সংবিধান। তারপর থেকে প্রতি বছর ২৬শে জানুয়ারি পালিত হয় প্রজাতন্ত্র দিবস।

এরমই মধ্যে শুরু হয়েছে প্রজাতন্ত্র দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। সকালে এ উপলক্ষ্যে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লিতে প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছেন  ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

২০২৪ সালে দুটি বিশেষ থিম বেছে নেওয়া হয়েছে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে। এর মধ্যে একটি ‘বিকশিত ভারত’, অন্যটি ‘ভারত – লোকতন্ত্রের মাতৃকা’। রীতি মেনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূর নেতৃত্বে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় কতর্ব্য পথে অনুষ্ঠিত হবে কুচকাওয়াজ।

প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে প্রতি বছরই দিনটিতে ভারতে একটি কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। আর এই ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজে আমন্ত্রিত থাকেন একজন করে রাষ্ট্রনেতা। এবার আমন্ত্রিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি এবারের প্রধান অতিথি।

প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্য বিপুল! প্রতি বছর দিল্লিতে কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত থাকে সামরিক বাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্ট। অশ্বারোহী দলও অনুষ্ঠানের জন্য সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়। বিভিন্ন রাজ্যের জন্য নির্দিষ্ট গান বাজানো হয়। সব মিলিয়ে একটা সুন্দর ছবি তৈরি হয় এদিন।

ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি গণতান্ত্রিক, প্রজাতান্ত্রিক ও সার্বভৌম এক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠে ভারত। পরবর্তীকালে ২৬ জানুয়ারি দিনটিকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে দিনটি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবেও স্বীকৃতি পায়।

১৫ অগাস্টকে ভারতের স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয় কারণ, এই দিনে ভারত ব্রিটিশশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছিল। আর ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করা হয় কারণ, সংবিধানের সহযোগিতায় এদিনই একটি গণতান্ত্রিক, প্রজাতান্ত্রিক ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ভারত।