গাজা উপত্যকার পরিস্থিতিকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজাকে ‘ডেথ জোন’ বা ‘মৃত্যুর অঞ্চল’ বলে আখ্যা দেন। এসময় যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক সাহায্যের অবাধ প্রবেশের সুযোগ দেয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
সাড়ে চার মাস ধরে চলা ইসরাইলের অবিরাম হামলায় ইতোমধ্যেই গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ক্রমশই বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। সাথে প্রায় ২৩ লাখ বাসিন্দা উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং তাদের একটি বড় অংশ ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যেই বৈশ্বিক সব বাধা উপেক্ষা করেই রাফাহতে বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল ইসরাইল। এবার এ হামলা ও অভিযান জোরদার করেছে ইসরাইল।
রাফার বাসিন্দারা জানান, ইসরাইল রাফায় কিছুক্ষণ পরপর বোমাবর্ষণ করছে। পাশাপাশি সমুদ্র সৈকতের পাশের এলাকাগুলোতে যুদ্ধজাহাজ থেকেও গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে।
তবে ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা রাফার উত্তর প্রান্তের শহর খান ইউনিসে অভিযান জোরদার করেছে। কিন্তু রাফার বিষয়ে কিছু জানায়নি তারা।
বুধবার তাদের উড়োজাহাজ হামলায় রাফাহ শহরের এক পরিবারের ১২জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়।
ইসরাইলের দাবি, হামাসের যোদ্ধারা আশ্রয় নিতে বেসামরিক ভবনগুলো ব্যবহার করছে, কিন্তু তা অস্বীকার করেছে হামাস।
এদিকে, খান ইউনিসের আল-আমাল হাসপাতালে প্রায় এক মাস ধরে ইসরাইলি অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালটিতে রোগীদের বাঁচাতে জ্বালানি বা ওষুধ অবশিষ্ট না থাকায় ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, মিশর থেকে গাজায় যে ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছিল গত দুই সপ্তাহে অনেকাংশ কমে গেছে। এর মধ্যে প্রবেশ পথ রাফায় ইসরাইল স্থল অভিযান শুরু করলে ত্রাণ প্রবেশ ও বিতরণ কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা।