ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের কাঙ্কের জেলায় মাওবাদীদের ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়ে ২৯ বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এই অভিযানে নিহত হয়েছেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা শঙ্কর রাও। তাকে ধরিয়ে দিতে ২৫ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ভারত সরকার।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে একে-৪৭ রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাওবাদীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভড ফোর্সের সদস্য (ডিআরজি)।
কাঙ্কার জেলায় লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ২৬ এপ্রিল ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবেশী বাস্তার জেলায় মাওবাদীদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। বাস্তারে প্রথম ধাপে, আগামী শুক্রবার ভোট হবে। এবারের লোকসভা নির্বাচন সাত ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।
মাওবাদী সশস্ত্র বিদ্রোহীরা প্রয়াত চীনা নেতা মাও জে দং-এর সমাজতন্ত্রের চিন্তাধারার অনুসারী। ভারতের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে কয়েক দশক করে সশস্ত্র গেরিলা সংগ্রাম করে আসছে। সরকারি বাহিনীর সঙ্গে প্রায় সময় তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, কঙ্কার জেলায় মাওবাদীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তাবাহিনী। পরে তা বন্দুকযুদ্ধে রূপ নেয়। এতে নিরাপত্তাবাহিনীর তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বন্দুকযুদ্ধের পর এলাকাটিতে তল্লাশির সময় ২৯ মাওবাদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেখান থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
মাওবাদীদের দাবি, তারা ভারতের দরিদ্র কৃষক ও ভূমিহীন শ্রমিকদের নিজেদের ভূমিতে আরও অধিকার এবং খনি কোম্পানির শোষণের শিকার শ্রমিকদের খনিজসম্পদে বৃহত্তর অধিকার দেওয়ার জন্য সংগ্রাম করছে।
রবিবার ছত্তিশগড়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি অঙ্গীকার করেছেন, মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পুনরায় ক্ষমতায় আসলে সশস্ত্র বিদ্রোহকে নির্মূল করা হবে।