বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে পাকিস্তান। সম্প্রতি ইসলামাবাদে দুই দেশের বিমানবাহিনী প্রধানদের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

এমন এক সময়ে ইসলামাবাদে দুই দেশের বিমান বাহিনী প্রধানের মধ্যে এই বৈঠক হলো, যখন গত বছরের মে মাসে চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে সংঘাতে পাকিস্তান তার বিমান বাহিনীর সাফল্যকে পুঁজি করার চেষ্টা করছে।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রেস উইং জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে দেশটির বিমানবাহিনী প্রধান জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মাল্টি-রোল এ যুদ্ধবিমান চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করেছে পাকিস্তান।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান দ্রুত সরবরাহের পাশাপাশি সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান।

হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য শুরু হয়, যা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের যুদ্ধের পর প্রথমবার। এ ছাড়া দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন।

নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্র্বতী সরকারের অধীনে বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

অস্ত্র বিক্রি সম্প্রসা রণ

জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ঘিরে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির ভিত্তি। আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে ৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি করছে দেশটি।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, তাদের অস্ত্র শিল্পের সাফল্য দেশের অর্থনৈতিক রূপ বদলে দিতে পারে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে বলেন, আমাদের বিমান পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা এত বেশি ক্রয়াদেশ পাচ্ছি, ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রয়োজন না-ও হতে পারে।