দেশের একমাত্র প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সময় ফুরিয়ে আসছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি)। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ জানুয়ারির পর থেকেই দ্বীপটিতে পর্যটক যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ থাকছে হাতে আর মাত্র ১৩ দিন।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই দুই মাসই কেবল পর্যটকদের জন্য রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সময়টাতেই কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল চালু থাকে। ৩১ জানুয়ারির পর ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দ্বীপে পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এর আগে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি মিললেও নভেম্বর মাসে পর্যটকদের দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসতে হতো। রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ থাকায় ভ্রমণকারীরা দ্বীপে বড়জোর দুই ঘণ্টার মতো সময় কাটানোর সুযোগ পেতেন। ফলে মূল ভ্রমণ মৌসুম হিসেবে ধরা হয় ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতেই।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকই সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। এই সীমা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি নেই। একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ট্রাভেল পা বর্তমানে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌরুটে ছয়টি জাহাজ চলাচল করছে। এগুলো হলো—কেয়ারি ক্রোজ এন্ড ডাইন, কেয়ারি সিন্দাবাদ, এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্নফুলি এক্সপ্রেস, বে ক্রোজার ওয়ান এবং এমভি টেকনাফ। প্রতিদিন ভোর থেকেই এসব জাহাজে পর্যটক যাতায়াত শুরু হয়। ট্রাভেল পাস যাচাই-বাছাইয়ে নিয়োজিত থাকেন পরিবেশ অধিদফতর, প্রশাসন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, ভ্রমণ বন্ধের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে পর্যটকদের চাপ। অনেকেই শেষ সুযোগ হিসেবে জানুয়ারির শেষ দিকটাতে সেন্টমার্টিন ঘুরতে যেতে চাইছেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের পর একটি পর্যটকও দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবে না।
নীল জলরাশি আর প্রবালের সৌন্দর্যে মোড়া সেন্টমার্টিন তাই আর কয়েক দিনের অতিথি। ৩১ জানুয়ারির পর প্রকৃতি ফিরে পাবে তার নিস্তব্ধতা, আর পর্যটকদের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী মৌসুম পর্যন্ত।












