শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯ জানুয়ারি ১৯৩৬ সালের আজকের এ দিনে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ছিলেন দেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধকালীন জেড ফোর্সের অধিনায়ক, সেনাবাহিনী প্রধান, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন অসীম বীরত্বে। সেদিন থেকেই দেশবাসী তার অসাধারণ নেতৃত্বের পরিচয় পায়।
দেশের সব সংকটে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে বারবার অবতীর্ণ হয়েছেন। জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন।
তিনি ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত দল তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নিহত হন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। তার নেতৃত্ব জাতির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে দুই দিনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তার কবর জিয়ারত, শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। গত শনিবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি জানান, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরস্থানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই দিন দোয়া মাহফিল ও রক্তদান কর্মসূচিসহ পালন করা হবে।
দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা হবে। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সংবাদ সম্মেলনে রিজভী দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এই কর্মসূচিগুলো সফল করার আহ্বান জানান এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, শহীদ জিয়া ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনের প্রবক্তা ক্ষণজন্মা। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য জিয়াউর রহমানকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
তিনি ছিলেন তার জীবদ্দশায় সব ক্রান্তিকাল উত্তরণে অন্যতম দিশারী। রণনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশবাসীর কাছে সমাদৃত ও সম্মানিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৯ মাস অসীম বীরত্বে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যান।
বাণীতে আরও বলা হয়, স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দিয়েছিল, দেশকে ঠেলে দিয়েছিল দুর্ভিক্ষের করালগ্রাসে, বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে, জাতির এরকম এক মহাসংকটকালে ৭ নভেম্বর সৈনিক জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন।
একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তার জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দেশের সকল সংকটে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে বারবার অবতীর্ণ হয়েছেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি অর্থনৈতিক, সামাজিক ন্যায়বিচার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।












