বাংলাদেশকে অযৌক্তিক চাপ দিয়ে ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাধ্য করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং অতীতেও এমন উদাহরণ রয়েছে যেখানে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় আসিফ নজরুল বলেন, “আমাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেবে, এমন কোনো কথা আমরা অফিসিয়ালি জানি না। তবে যদি ভারতীয় বোর্ডের কাছে নতি স্বীকার করে আইসিসি আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা অযৌক্তিক কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয়, আমরা তা মানব না।”

ভারতে খেলা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি অতীতের নজিরও টানেন। তার ভাষ্য, “এর আগে এমন উদাহরণ আছে। ভারত পাকিস্তানে খেলতে যাবে না বলার পর আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে। আমরাও যৌক্তিক কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের কথা বলেছি। আমাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ তৈরি করে ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না।”

মোস্তাফিজ ইস্যু থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অবস্থান, সব মিলিয়ে এখন ক্রিকেটের মাঠের বাইরেও নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে বাংলাদেশ। নিজেদের দাবি না মিললে ভবিষ্যতে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে পারে বাংলাদেশ, এমন ইঙ্গিতই মিলছে এই বক্তব্যে।

আইসিসির ভেন্যু পাল্টানোর উদাহরণ দিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘পাকিস্তানে ভারত খেলতে যাবে না বলেছে, আইসিসি ভেন্যু পাল্টেছে। আমরা অত্যন্ত যৌক্তিক কারণে ভেন্যু পাল্টানোর কথা বলেছি। অযৌক্তিক চাপ তৈরি করে আমাদের ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না।’

৩ জানুয়ারি ভারতের উগ্রবাদীদের প্রতিবাদে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স, যা বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। এরপর নিরাপত্তাশঙ্কায় টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে। গ্রুপ ‘সি’তে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো কলকাতা ও মুম্বাইয়ে।