ঢাকার যানজট নিরসনে অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এরইমধ্যে চালু হওয়া এই এক্সপ্রেসওয়েতে যুক্ত হচ্ছে আরও চারটি নতুন র‍্যাম্প। প্রস্তাবিত এসব র‍্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টকে সরাসরি সংযুক্ত করবে মূল এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগ বলছে, পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে একটি র‍্যাম্প, মহাখালী বাস টার্মিনালে একটি র‍্যাম্প, রামপুরা, আফতাবনগর ও খিলগাঁওকে যুক্ত করতে একটি এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শেষ প্রান্তে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য আরেকটি র‍্যাম্প নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।

এদিকে, নতুন র‍্যাম্প চালু হলে নগরবাসীর যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন ব্যবহারকারীরা। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে উতরে গেলে তবেই চান বাস্তবায়ন।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল এক্সপ্রেসওয়েতে ধারণ ক্ষমতা যাচাই, র‍্যাম্প সংযোগস্থলে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, লেন ব্যবস্থাপনা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে আধুনিক ট্রাফিক ডিজাইন অপরিহার্য। একই সঙ্গে প্রয়োজন জনসচেতনতা ও পর্যাপ্ত সাইনেজ।

বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘র‍্যাম যুক্ত করলে সেখানে ট্রাফিক উঠবে। কিন্তু আমার মাথায় রাখতে হবে এক্সপ্রেসওয়ের যে মূল, সেটার সক্ষমতা আছে কি না।

আমি যখন লোকাল ট্রাফিককে উঠতে দিব। আমার মূল যে অবকঠামো আছে, তার হজম করার সক্ষমতা আছে কি না? নতুন করে যে র‌্যাম যুক্ত হওয়া, সেটা করতে গেলে আবার নকশা করতে হবে। তার আগে আমার ফিজিবিলিটি স্টাডি দরকার। তারপরে ডিটেইল ডিজাইন এবং সে অনুযায়ী কাজটা আমাদের করতে হবে। এই বিষয়গুলো কিন্তু আসলে পুঙ্খানভাবে চিন্তা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যেখানেই র‌্যাম যুক্ত করছি নিচের সড়কের সঙ্গে, সেই সড়কের সক্ষমতা আছে কি না, সেখানে আবার নতুন করে যানজট তৈরি হবে কি না- এসব মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।’ ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটারের ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে এরইমধ্যে ৩১টি র‍্যাম্প বসানো হয়েছে। এর বাইরে নতুন করে আরও চারটি র‍্যাম্প বসানোর আগে পরীক্ষার ওপরই জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।