জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ সময় এসেছে পরিবর্তনের। এই পরিবর্তনকে যদি সত্যিকারভাবে মিনিংফুল পরিবর্তন করতে হয়, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয়; তাহলে আমাদের সকলকে আজ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
দুর্নীতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে কোনো পরিকল্পনায় কাজে দেবে না বলে মনে করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি—সব করতে পারে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, বিগত সময় যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, আপনারা দেখেছেন যেই হোক না কেন এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক—যারা কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করেছে; আমরা তাদেরকেও ছাড় দেইনি।
“আজ এই দেশের জনগণ, এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে- ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব; যাতে দেশের সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ যাতে করে নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।”
তারেক রহমান বলেন, “এই সেই চট্টগ্রাম, এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি—যেখান থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হয়েছিলেন।
“প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই সেই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি, যেখান থেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই চট্টগ্রামের পুণ্যভূমির সাথে আমি এবং আমার পরিবারের একটি আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।”
তিনি বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে যে, দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল; কিন্তু সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি। আমরা দেখেছি বিগত ১৫ বছর এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ কেউ গ্রহণ করেনি।
“এই উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শুধু এই চট্টগ্রামের মানুষ নয়- সমগ্র চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সারা দেশে ব্যবসা বাণিজ্য অনেক চাঙ্গা হবে যাতে করে মানুষের কর্মসংস্থান হবে; মানুষ চাকরি-ব্যবসা-বাণিজ্য করে খেতে পারবে। কী সেটি? বাণিজ্যিক রাজধানী।
“ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে খালেদা জিয়ার সেই উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব, আগামী বিএনপি সরকার সেটিকে বাস্তবায়ন করবে—যাতে করে এই এলাকার মানুষ ব্যাংকিং সুবিধাসহ সকল কিছু এখানে বসেই কাজ সেরে নিতে পারে।”
তারেক রহমান বলেন, “বিগত ১৫ বছর যেমন আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেই রকম একটি ষড়যন্ত্র আবারো শুরু হয়েছে। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সকলে সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন।
“যাতে আবার আপনাদের অধিকার, আপনাদের ভোটের অধিকার, আপনাদের কথা বলার অধিকার, আপনাদের বেঁচে থাকার অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে যেতে কেউ না পারে।”
ধানের শীষে ভোট দিয়ে ‘বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে জনগনের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। চট্টগ্রাম,কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলার দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা চাই, সকলকে নিয়ে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য; সেই পাহাড়ের মানুষ হোক, সেই সমতলের মানুষ হোক, সে ইসলাম ধর্মের মানুষ হোক বা অন্য কোনো ধর্মের মানুষ হোক—আমরা সকলকে নিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
“সেই বাংলাদেশ যদি গড়ে তুলতে হয়, আজকে এখানে যে লাখো মানুষ আছেন- আপনাদের মাধ্যমে আপনাদের এলাকার লক্ষ কোটি মানুষের কাছে আহ্বান রাখব—গণতন্ত্রে যারা বিশ্বাস করেন, মানুষের বাক স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্রের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করেন; সকলকে আহ্বান জানাব—ধানের শীষ তথা বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন।
“ইনশাল্লাহ ধানের শীষ এবং বিএনপি নির্বাচিত হলে আপনাদেরকে সাথে নিয়ে এদেশের খেটে খাওয়া মানুষকে সাথে নিয়ে বিএনপি তাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজে হাত দেবে অতীতের মতো। সেই আমি একটি কথা বলে থাকি—‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’।
সকাল থেকে পলোগ্রাউন্ড মাঠে খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে শুরু করে। সকাল ১০টার মধ্যে পুরো মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়।
এ সমাবেশে ছিলেন—চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন ও চট্টগ্রামের-৭ আসনের প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘ইয়ুথ পলিসি টকে’ বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তার গাড়ি বহর লালখান বাজার মোড় হয়ে জনতার ভিড় পেরিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছায়।












