যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে ইরান। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে লাইভ-ফায়ার মহড়া করার ঘোষণাও দিয়েছে দেশটির সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটেম) জারি করেছে ইরানের সরকার। সেই নোটিশে হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশের এলাকায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২৫ হাজার ফুট উচ্চতার নিচে কোনো বিমান দেখা গেলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে— সেই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে নোটেমে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিশেষ বিমান সতর্কবার্তায় (নোটাম) জানানো হয়েছে, ৫ নটিক্যাল মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সব ধরনের বেসামরিক ও সামরিক উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই রুট দিয়ে পরিবহণ করা হয়, ফলে এখানে যেকোনো সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলে।

এমন এক সময়ে ইরান এই মহড়া দিচ্ছে যখন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং বেশ কিছু গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইওয়ার এক অনুষ্ঠানে ইরানের দিকে মার্কিন নৌবহর অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, তিনি একটি সুন্দর নৌবহর ইরানের দিকে পাঠিয়ে আশাবাদী যে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হবে।

পেন্টাগন ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে যুদ্ধবিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী কোনো দেশ থেকে যদি ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে তাকে সরাসরি শত্রুতা হিসেবে গণ্য করা হবে।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যে কোনো ছোট বা বড় হামলাকে তারা ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং এর কঠোরতম জবাব দেবেন। এই উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা বা ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি ইসরাইলে কোনো হামলা চালায়, তবে তারা এমন শক্তি দিয়ে তার জবাব দেবে যা ইরান আগে কখনো দেখেনি। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে ইসরাইল নিজস্ব সুরক্ষা ও পাল্টা হামলার বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।