নওগাঁয় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

ডব্লিউএইচও আরো জানিয়েছে, রাজশাহী বিভাগে নতুন করে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রোগ আন্তর্জাতিক মহামারিতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি কম বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী ভারতেও দুটি নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে জোরদার করা হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আক্রান্ত ওই নারী ছিলেন ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী। তিনি ২১ জানুয়ারি নিপাহ ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হন। শুরুতে জ্বর ও মাথাব্যথা দেখা দেয়, পরে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, দিকভ্রান্তি ও খিঁচুনির মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়। এক সপ্তাহ পর তার মৃত্যু হয় এবং মৃত্যুর একদিন পর পরীক্ষায় নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়।

ডব্লিউএইচও জানায়, ওই নারীর কোনো ভ্রমণ ইতিহাস না থাকলেও কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন তিনি। এ জন্য তার সংস্পর্শে আসা ৩৫ জন ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের সবার পরীক্ষার ফল নিপাহ ভাইরাসের জন্য নেগেটিভ এসেছে। এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

নিপাহ ভাইরাস সাধারণত বাদুড় দ্বারা দূষিত ফল বা খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে ছড়ায়। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, তবে মানুষে মানুষে এটি সহজে ছড়ায় না, অর্থাৎ এটি তেমন সংক্রামক রোগ নয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ বিমানবন্দরে তাপমাত্রা পরীক্ষা চালু করেছে।

ডব্লিউএইচও বলেছে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম বলে বিবেচিত হচ্ছে এবং এ কারণে কোনো ধরনের ভ্রমণ বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়নি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে চারটি পরীক্ষাগারে নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনা রিপোর্ট করা হয়। বর্তমানে এই সংক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই।