বহুল কাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। চলবে একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এক ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে প্রথমবারের মতো একই দিনে ব্যালটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে রায় দেবেন ভোটাররা। রাজধানীর বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রের বাইরে দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। ভোটারদের মাঝে উদ্দিপনা লক্ষ্য করা গেছে।

ভোরের কুয়াশা ঠেলে রাজধানীর আকাশ যখন পরিষ্কার হতে শুরু করেছে, তখনই ভোটকেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ হতে শুরু করেছে মানুষের সারি। নির্ধারিত সময়ের আগেই হাতে এনআইডি কার্ড নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছেছেন অনেকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের এই আবহে উৎসবের আমেজ এখন শহরজুড়ে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকেই ঢাকা-১৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত মোহাম্মদপুর সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ কেন্দ্রেসহ বেশ কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতির এমন চিত্র দেখা গেছে। একই কেন্দ্রে সকাল ৮টা নাগাদ জামায়াত জোট মনোনীত ‘রিকশা’ প্রতীকের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ভোট দেবেন বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কেন্দ্রের ভেতরে নির্বাচনী কর্মকর্তারা ব্যালট বক্স সিলগালাসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ করছেন। প্রত্যেক ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে তবেই কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে রাজধানীজুড়েই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ঢাকায় ডিএমপির ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ নিরাপত্তা ছাড়াও বিশেষায়িত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ এবং ক্রাইম সিন ভ্যান স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সার্বক্ষণিক টহলে আছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র সদস্য রয়েছে সেনাবাহিনীর। এ ছাড়া নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন।

ভোটের মাঠে যেকোনো ধরনের নির্বাচনী অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচারে নিয়োজিত রয়েছেন ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বিশাল এই নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ তদারকি করতে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের ব্যাপক উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। ইসির আমন্ত্রণে ও স্বেচ্ছায় আসা ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক ভোট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি দেশীয় ৮০টি সংস্থার প্রায় ৪৫ হাজার পর্যবেক্ষকও এই নির্বাচনে নজরদারি করছেন।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদীয় আসন ঢাকা-১৩ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৮১২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনীত হয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে লড়ছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। এছাড়াও জামায়াত জোট মনোনীত ‘রিকশা’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

এ ছাড়া এই আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ‘ট্রাক’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মিজানুর রহমান এবং ‘কলস’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সোহেল রানা। ‘রকেট’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) মো. শাহাবুদ্দিন। ‘মই’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. খালেকুজ্জামান। ‘হারিকেন’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার। ‘আপেল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া এবং ‘ঘুড়ি’ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেখ মো. রবিউল ইসলাম।