একুশের প্রথম প্রহরে নিজের এলাকায় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের ২ ইউনিয়নের) সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
এসময় বিএনপির একদল নেতাকর্মী তার পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সরাইল উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন এ সংসদ সদস্য।
এ ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকা ও বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় তারা সড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে রাত পৌনে ১২টার দিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছান রুমিন ফারহানা। এরপর পুষ্পস্তবক নিয়ে বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রুমিন ফারহানা ও তার কর্মী-সমর্থকরা।
পুষ্পস্তবক দেওয়ার আগ মুহূর্তে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে দলটির একদল নেতাকর্মী এসে রুমিন ফারহানার উদ্দেশে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।
এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে না পেরে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় রুমিন ফারহানা শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ভিডিওতে সবকিছু স্পষ্ট আছে।”
তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তাই যারা দলের পদ ব্যবহার করে এমন হিংস্রতা করে, তাদের বিষয়ে দলের উচ্চ পর্যায়ে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “ভিডিও দেখে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”












