রাজধানীতে হঠাৎ শিলাবৃষ্টির দেখা মিলেছে। শনিবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চমকানির সঙ্গে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয় এবং একই সঙ্গে পড়তে শুরু করে শিলা। হঠাৎ এ বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন রাজধানীবাসী। তবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসায় অনেকে স্বস্তিও প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ এ বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। কেউ ছাতা ব্যবহার করেন, কেউ দোকানপাটের ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করেন।

জানা যায়, কারওয়ান বাজার, ইস্কাটন, বাংলামোটর, ফার্মগেট, বাড্ডা, খিলক্ষেত, উত্তরখান, রামপুরা, মিরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় শিলাবৃষ্টি হয়। প্রায় ৩ মিনিটের এ বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও শিলার স্তূপ জমে যায়।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপের বর্ধিতাংশের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী কয়েক দিন বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আজ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস রয়েছে।

শনিবার দ্বিতীয় দিনেও রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগামীকাল রোববার তৃতীয় দিনে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সোমবার চতুর্থ ও মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে দেশের সব বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে; তবে পঞ্চম দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫৭ শতাংশ। এ সময় ঢাকায় পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল, যা দমকা আকারে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টির সময় ঢাকার অদূরে সাভারেও ঝড়ের কবলে পড়ে একজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।