মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি স্থায়ী হলো না কয়েক ঘণ্টাও। সোমবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫ দিন কোনো হামলা চালানো হবে না বলে ঘোষণা দিলেও, মঙ্গলবার ভোরেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতভর রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাব্রিজ, ইস্পাহান ও কারাজ শহরেও হামলা চালানো হয়। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুটি গ্যাস স্থাপনা ও একটি পাইপলাইনে আঘাত হানে এসব হামলা।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ইসফাহানের কাভেহ স্ট্রিটে গ্যাস প্রশাসনিক ভবন ও গ্যাস চাপ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খোররামশাহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে।
এ ছাড়াও ওই সংস্থার আশপাশে বসতি এলাকার একাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খোরমশহরের বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপর সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
ইরাক এবং কুয়েতের সীমান্তলাগোয়া এই শহরে হামলা ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।
ফার্স নিউজে আরও দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দু’টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে।
ইরানের এই দাবি নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেনি আমেরিকা বা ইসরায়েল। দুই দেশের কেউই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
প্রসঙ্গত, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হয়েছে।
তার পরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আমেরিকা।
এর আগে গত শনিবার হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালানোর হুমকি দেন ট্রাম্প। ৪৮ ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দেন। সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হয়।
তার পরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আপাতত পাঁচ দিন হামলা বন্ধ রাখা হবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরই ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলিতে পাল্টা দাবি করা হয়, আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি।












