ইরানের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মাত্রা তীব্র হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পর্কিত সংবাদ সংস্থা ফারস এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পরিকল্পনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো জাহাজের হরমুজ প্রণালীতে চলাচল নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিশনের এক সদস্যের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় আর্থিক ব্যবস্থা ও রিয়ালভিত্তিক টোল সিস্টেম চালু করা, ইরানের সার্বভৌম ভূমিকা বাস্তবায়ন এবং প্রণালীর অপর প্রান্তে থাকা ওমানের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে ফার্স নিউজ এজেন্সি পার্লামেন্টের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের ফি আদায় করা উচিত।

বিশ্বের জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে বিবেচিত, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান।

ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।

বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।

প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়।

তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল, ইরান আক্রান্ত হলে এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম হু হু করে বাড়বে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তেল যেহেতু বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাই দামের যেকোনো উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে। ইরানের হামলার পর দেশটি হরমুজ প্রণালিকে কূটনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে যথেষ্ট আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।