পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম স্থাপন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্বে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। ফলে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার পর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আজ বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ উপলক্ষে রূপপুর প্রকল্পের অভ্যন্তরে আয়োজিত ‘রূপপুর থেকে রূপান্তর’ অনুষ্ঠানে ফুয়েল লোডিং কাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিবসহ রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রোসাটমের মহাপরিচালক এলক্সি লিখাচভ। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসির ধারণকৃত বক্তব্য দেখানো হয়। এর আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কিত একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা কিছুদিন ধরে এই পারমাণবিক প্রকল্পে কাজ করছিলাম। তিনি বলেছিলেন, সেফটি সিকিউরিটি রেখে যতদ্রুত সম্ভব এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কমিশনিং করার জন্য। আজকে সেইদিন আমরা পেয়েছি।
তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ থেকে আজকে আমাদের জ্বালানি লোডিং শুরু হলো। এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। বহু বছরের পরিকল্পনা, গবেষণা, দক্ষতা, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সফল পরিণতি দেখতে পাচ্ছি আজ। রাষ্ট্র যখন দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করে তখন এমন অর্জন সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, আজকে শিল্পায়ন, আধুনিকায়ন, টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অপরিহার্য। এই বাস্তবতায় পারমাণবিক শক্তি আমাদের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় অন্যতম ভিত্তি। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই করবে না, এটা আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, শিল্পায়ন, ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি লোডিং করতে সময় লাগবে ৪০ থেকে ৪৫ দিন। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এ প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। শুরুর দিকে প্রথম ইউনিট থেকে প্রথম অবস্থায় অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
প্রসঙ্গত, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেয়া হয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে।












