ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা এক যুগের বেশি সময় শাসনের অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ১৯৫টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। অন্যদিকে, মাত্র ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস।
এনডিটিভিসহ ভারতের বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন একাধিক কারণে ঐতিহাসিক মোড় নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, আসাম, কেরালা ও পুদুচেরি- এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে একযোগে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু আঞ্চলিক রাজনীতির গতিপথই বদলায়নি বরং জাতীয় রাজনীতির শক্তির ভারসাম্যেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অভূতপূর্ব সাফল্য, তামিলনাড়ুতে অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের বিস্ময়কর উত্থান এবং আসামে বিজেপির টানা তৃতীয় জয়- সব মিলিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের আসনে। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রামের পর এবার ঘরের মাঠেও পরাজয় বরণ করতে হলো তাকে।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি এককভাবে ১৯৫টি আসন জিতে সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার করেছে। বিপরীতে তৃণমূলের আসন সংখ্যা গতবারের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৮-তে।
বড় চমক এসেছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের আসনে। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রামের পর এবার ঘরের মাঠেও পরাজয় বরণ করতে হলো তাকে।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি এককভাবে ১৯৫টি আসন জিতে সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার করেছে। বিপরীতে তৃণমূলের আসন সংখ্যা গতবারের তুলনায় ব্যাপকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৮-তে।
এবারে দুদফায় বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম দফায় গত ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয় দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরে।
দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয় গত ২৯ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ হয় নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে। দুই দফাতেই এবার রেকর্ড হারে ভোটদান হয়। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের তুলনায় ২০২৬-এ ভোটার সংখ্যা ৫১ লাখ কমলেও, গতবারের তুলনায় এবার প্রায় ৩১ লাখ ভোট বেশি পড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। আর এবার ২০২৬-এ গড়ে ভোট পড়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ, গতবারের তুলনায় এবারের নির্বাচনে প্রায় ১১ শতাংশ ভোট বেশি পড়েছে। এই বিপুল ভোটদান নজিরবিহীন এবং সর্বকালীন রেকর্ড। শতাংশের পাশাপাশি রেকর্ড তৈরি হয়েছে সংখ্যার হিসাবেও। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এবারের মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৩৪ লাখ। এসআইআর-এর জেরে এবার ভোটার সংখ্যা কমে হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ। অর্থাৎ, ২০২১-এর তুলনায় এবার ৫১ লাখ ভোটার কমেছে।
তবে মোট ভোটার কমলেও প্রদত্ত ভোট চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। ২০২১-এ ভোট দিয়েছিলেন ৬ কোটি ৩ লাখ ভোটার। আর, এবার মোট ভোট দিয়েছেন ৬ কোটি ৩৪ লাখ ভোটার। ২ দফা মিলিয়ে ২০২১-এর তুলনায় ভোটদাতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩১ লাখ। প্রথম দফায় যে ১৬টি জেলায় ভোট হয়েছে, ২০২১-এর তুলনায় সেই জেলাগুলিতে, প্রায় সাড়ে ২১ লাখ বেশি ভোট পড়েছে। আর, দ্বিতীয় দফার ৭ জেলায় বেশি ভোট পড়েছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ।












