ওমানে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারানো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার সহোদরের মরদেহ মঙ্গলবার (১৯ মে) দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর রাফিউল ইসলাম জানান, স্পন্সরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শেষ হলে আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবারের মধ্যে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

ওমানে দীর্ঘ এক যুগের প্রবাসজীবনে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর যে স্বপ্ন তারা বুনেছিলেন, তার এমন করুণ পরিণতিতে পুরো রাঙ্গুনিয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান চার ভাই। নিহতরা হলেন— রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দাররাজা পাড়ার প্রয়াত মোহাম্মদ হাসানের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ।

রাতেই মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার, স্বজন এবং ওমানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মাঝেও গভীর শোক নেমে আসে। একই পরিবারের চার ভাইয়ের একসঙ্গে মৃত্যু এলাকায় বিরল ও হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। মৃত্যুর খবরে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ। পুরো এলাকা এখন স্তব্ধ।

পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বর্তমানে একমাত্র জীবিত ভাই দেশে অবস্থান করছেন। নিহতদের মধ্যে বড় ভাই বিবাহিত ছিলেন, তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্য এক ভাইও সম্প্রতি বিয়ে করে আবার প্রবাসে পাড়ি জমান।

তাদের ছোট ভাই মো. এনাম জানান, নিহতদের মধ্যে সিরাজ ও শহিদ অবিবাহিত ছিলেন। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে আগামী ১৫ মে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। তাদের আসাকে ঘিরে পরিবারে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছিল। দুই ভাই শপিং করতে বের হলেও শেষ পর্যন্ত ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।

ওমানে অবস্থানরত প্রবাসীদের ভাষ্যমতে, বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে অসুস্থতার কথা জানান। তিনি নিজেদের অবস্থানও পাঠিয়ে বলেন, গাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো অবস্থায় তারা নেই। পরে মুলাদ্দাহ এলাকার একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

ওমানের স্থানীয় পুলিশ মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় গাড়িটি চালু অবস্থায় স্থির থাকার কারণে এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই গ্যাস শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।