বিশ্বকাপ শুরুর আগে দারুণ ছন্দে রয়েছেন কাতার বিশ্বকাপ জয়ী লিওনেল মেসি। এবার তো তার গোল ও চোখধাঁধানো অ্যাসিস্টে অবশেষে নিজেদের নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম জয়ের দেখাও পেয়েছে ইন্টার মায়ামি। পোর্টল্যান্ড টিম্বার্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
৩৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা পুরো ম্যাচজুড়ে টিম্বার্সের রক্ষণভাগ নাকাল করেছেন। বিশ্বকাপ শুরুর এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে এই পারফরম্যান্স আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, কতটা ভয়ংকর হতে পারেন মেসি।
ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক এই ব্যর্থতার পরও, এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে আছে ইন্টার মায়ামি। এক ম্যাচ কম খেলা ন্যাশভিল এসসি-র চেয়ে ২ পয়েন্টে পিছিয়ে মেসির দল। ১৪ ম্যাচে ৮ জয়ে ২৮ পয়েন্ট মায়ামির।
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ম্যাচের আধা ঘণ্টার মাথায় একটি দারুণ আক্রমণ থেকে প্রথম গোলটি করেন মেসি। মাঝমাঠ থেকে বল বাড়িয়ে তিনি পাস দেন ‘বন্ধু’ লুইস সুয়ারেজকে। সুয়ারেজ থ্রু পাসে খুঁজে নেন তেলাস্কো সেগোভিয়াকে। সেগোভিয়ার দারুণ এক ব্যাকহিল পাসে বল আবার চলে আসে মেসির পায়ে, আর নিখুঁত শটে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
১০ মিনিট পর, ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ গতিতে বল নিয়ে ওপরে ওঠেন আরেক আর্জেন্টাইন রদ্রিগো ডি পল। খুঁজে নেন সতীর্থ মেসিকে, এরপর সুয়ারেজের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে চারজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে চমৎকার এক পাস বাড়িয়ে দেন জার্মান বেরতেরামেকে, শেষ পর্যন্ত ব্যবধান হয়ে যায় ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা কমে আসে। এই অর্ধে মেসি ব্যবধান বাড়ানোর কিছু সুযোগ মিস করেন; ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর একটি বাঁ পায়ের বাঁকানো শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে তাঁর নেওয়া একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলকিপার জেমস প্যানতেমিস ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্যভাবে রুখে না দিলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
এই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্টের পর চলতি মৌসুমে মেসির নামের পাশে এখন ১২টি গোল এবং ৬টি অ্যাসিস্ট, মোট ১৮টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন। বিশ্বকাপ বিরতির আগে আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি থাকতে এমএলএস গোল্ডেন বুট রেসেও ‘এলএমটেন’ এখন দ্বিতীয় স্থানে আছেন।












