উপমহাদেশের প্রখ্যাত ও কালজয়ী সংগীতশিল্পী সুমন কল্যাণপুর আর নেই। গত রোববার রাতে মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে এই কিংবদন্তি গায়িকার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। লোখান্ডওয়ালার বাসভবনে স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সোমবার মুম্বাইয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

ষাট ও সত্তরের দশকে ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল সুমন কল্যাণপুরের। ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’, ‘না না কারতে প্যায়ার’ কিংবা ‘তুমনে পুকারা অর হাম চলে আয়’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় হিন্দি গানের পাশাপাশি ‘মনে করো আমি নেই, বসন্ত এসে গেছে’র মতো কালজয়ী বাংলা গান উপহার দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন তিনি।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি ভজন ও গজলসহ ১১টি ভিন্ন ভাষায় প্রায় ৭৪০টি গান গেয়েছেন। এর মধ্যে কিংবদন্তি গায়ক মোহাম্মদ রফির সঙ্গেই গেয়েছেন ১৪০টি দ্বৈত গান। তার কণ্ঠের মাধুর্য ও গায়কির কারণে প্রায়ই তাকে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তুলনা করা হতো, যদিও তিনি নিজেকে সবসময় লতা মঙ্গেশকরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

এই গুণী শিল্পীর প্রয়াণে ভারতজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সুমন কল্যাণপুরের সুরেলা কণ্ঠ ভারতীয় সংগীত ও চলচ্চিত্র জগতে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছে। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র কন্যা চারুসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।