ইপিআই কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকা, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের ভ্যাকসিন ও এইডস রোগীদের চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত ওষুধ ক্রয়ের জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের চার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ৪৬৩ কোটি ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকা ব্যয় হবে।
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় প্রস্তাব চারটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা যায়, মাঠ পর্যায়ে ইপিআই কার্যক্রম চলমান রাখতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে চাহিদার ৫০% ভ্যাকসিন ৪১৯ কোটি ৯৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮২৪ টাকায় ইতঃপূর্বে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয় করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ইপিআই কর্মসূচির অবশিষ্ট ৫০% ভ্যাকসিন ক্রয়ের জন্য তাদের কাছে প্রাইস অফার আহ্বান করা হলে প্রস্তাব দাখিল করে।
টিইসি কর্তৃক প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে সুপারিশকৃত দরদাতা ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা আন্তর্জাতিক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রুটিন ইপিআই ভ্যাকসিন (৭ ধরনের ভ্যাকসিন) সংগ্রহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৫ টাকা।
মোট ৭৭ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩৬ সংখ্যক ভায়াল ভ্যাকসিন ক্রয় করা হবে। ভ্যাকসিনসমূহের উৎপাদনকারী দেশ জাপান, ডেনমার্ক, ভারত, বুলগেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বেলজিয়াম এবং দক্ষিণ কোরিয়া।
কর্মকর্তারা বলেন, সময়মতো টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এ ক্রয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।
কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের সংক্রামক ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে ইপিআই দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি হিসেবে কাজ করছে। টিকার নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনক্রমে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ব্যবহৃত ভ্যাকসিন মেসার্স রেনেটা পিএলসি’র কাছ থেকে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৬৫ হাজার সংখ্যক ভ্যাকসিন ৭৭ কোটি ৫৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় ক্রয়ের চুক্তি করা হয়। ওষুধটির বর্তমান মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ ও সম্ভাব্য স্টক-আউট পরিস্থিতি এড়ানোর লক্ষ্যে অতিরিক্ত পরিমাণ ওষুধ সংগ্রহের প্রয়োজন। ফলে মেসার্স রেনেটা পিএলসির নিকট থেকে অতিরিক্ত ১ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজার অ্যান্টি-টিবি ড্রাগস-৪এফডিসি ক্রয়ে ভেরিয়েশন বাবদ মূল চুক্তির অতিরিক্ত ১৫ কোটি ৫১ লাখ ৩১ হাজার ২০০ টাকার ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় কমিটি।












