টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আজ অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ৪ উইকেটে জিতেছিল অসিরা। ফলে এক ম্যাচ বাকী থাকতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়া।

বাংলাদেশের জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। নাথান এলিসের করা ১৯তম ওভার থেকে বাংলাদেশ তুলতে পারে কেবল ১১ রান। ফলে শেষ ৬ বলে জয়ের সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ রানে। অ্যারন হার্ডির ওভারে দুই বাউন্ডারিতে ১৫ রান করলেও সমীকরণ মেলাতে পারেননি হৃদয়-সাকলাইন। ৭ রানের হারে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ খুইয়েছে স্বাগতিকরা।

চট্টগ্রামে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে নাসুম ও নাহিদের দারুণ বোলিংয়ে শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে চতুর্থ উইকেটে ৯৭ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। রেনশের ৮৯ এবং ডেভিডের ৪৫ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় অজিরা।

১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার সাইফ ও তানজিদ তামিম মিলে শুরুটা করেছিলেন দুর্দান্ত। দুজন মিলে ৩.৩ ওভারেই গড়েছিলেন ৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। তবে ৩.৪ ওভারে রেনশর বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন তামিম, ফেরার আগে তিনি ১৫ বলে করেন ৩০ রান। এরপর সৌম্য সরকারও দ্রুতই আউট হন। দলীয় ৭৭ রানেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি।

এদিকে সৌম্য ফেরার পর পারভেজ ইমনকে নিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন সাইফ। এ দুজন মিলে অজি বোলারদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। ফলে স্কোরবোর্ডে রানও ওঠেছে দ্রুত। এ দুজনের মারকুটে ব্যাটিংয়ে ১২ ওভারে ২ উইকেটে ১২২ রান নিয়ে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে বিপত্তি বাঁধে ১৩তম ওভারে।

দলীয় ১৩০ রানে ত্রয়োদশ ওভারে অ্যারন হার্ডির বলে মিচ মার্শের দুর্দান্ত এক ক্যাচে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন ইমন। ফেরার আগে তিনি করেন ২২ বলে ৩৬ রান। ফলে ভাঙে দুজনের ৫৩ রানের জুটি। এদিকে ইমন ফেরার পরের ওভারেই আউট হন সাইফও।

দলীয় ১৩৪ রানে সাইফ ও ১৫৩ রানে শামিম হোসেন আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের জয়ের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ ৩ ওভারে ৪২ রান দরকার পড়ে টাইগারদের। ১৮তম ওভারে ৮ ও ১৯তম ওভারে ১১ রানে এলে, ম্যাচের শেষ ওভারে ২৩ রানের দরকারে ১ উইকেটের বিনিময়ে ১৫ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ফলে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৯ রান করে ম্যাচ ও সিরিজ হারে টাইগাররা।