শিক্ষকদের রাজনীতিমুক্ত থেকে শ্রেণীকক্ষে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের স্থানীয় বা জাতীয় কোনো নির্বাচনেই শিক্ষকদের অংশ নেওয়া উচিত নয়। এর পরেও যদি কোনো শিক্ষক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তবে তাকে অবশ্যই শিক্ষকতা পেশা তথা চাকরি ছেড়ে দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা পরিষ্কার জানিয়ে দেন।
একই সঙ্গে দেশের মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের কারিগরি শিক্ষায় শতকরা ৫৪ ভাগ এবং মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৪৪ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।
এই বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়া জাতীয় অগ্রগতির জন্য বড় একটি উদ্বেগের বিষয়। এই সংকট কাটাতে সরকার মাঠ পর্যায়ে বিশেষ তদারকি সেল গঠনসহ ঝরে পড়া রোধে বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে।
শিক্ষা খাতের বাজেট ও স্বচ্ছতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। আমাদের লক্ষ্য জিডিপির (GDP) ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা। তবে বরাদ্দের পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
শিক্ষা খাতের অনুদানের বা বাজেটের একটি টাকাও কোনো ধরনের অপচয় বা অপব্যবহার হতে দেওয়া হবে না। প্রতিটি পয়সা শতভাগ জবাবদিহিতার সঙ্গে প্রকৃত শিক্ষা উন্নয়নেই ব্যয় করতে হবে।”
অতীতে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের ফান্ডের অপচয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক অনুদানের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এখন থেকে সরকারের মূল ফোকাস থাকবে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর, যাতে করে এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা যায়।












