অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত মিসরকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় ম্যাচটি শুরু হয়।
ম্যাচের শুরুর ১০ মিনিট বেশ এলোমেলো খেলেছে আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে বারবার বল হারিয়েছে। অন্যদিকে, ম্যাচের ১৫ মিনিটে গোলের দেখা পায় মিশর। মারওয়ান আত্তিয়ার ক্রস থেকে হেড করে বল জালে পাঠান ইয়াসের ইব্রাহিম।
এরপর ম্যাচের ১৯ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে পারেননি অধিনায়ক মেসি। ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে তার নেওয়া শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দিলেন মিসরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবের।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে ম্যাক আলিস্টারের দারুণ হেড রুখে দেন মিশরীয় গোলকিপার। এরপর ম্যাচের ৩৯ মিনিটে আলভারেজকেও হতাশ করেন মিশরের গোলরক্ষক শোবের। এতে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মিসর। ৫৮ মিনিটে জিকোর একটি গোল ভিএআর (ঠঅজ) প্রযুক্তির সাহায্যে বাতিল হলেও, ঠিক ৯ মিনিট পর (৬৭ মিনিটে) মোহাম্মদ সালাহর পাস থেকে বল পেয়ে জিকো আর কোনো ভুল করেননি। স্কোরবোর্ড দাঁড়ায় ২-০। আটলান্টার গ্যালারিজুড়ে তখন ফারাওদের উৎসব, আর আর্জেন্টিনার ডাগআউটে ভর করে এক নিস্তব্ধতা।
তবে চ্যাম্পিয়নরা যে খাদের কিনারা থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে পছন্দ করে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন মেসিরা। ৭৯ মিনিটে মেসির বাড়ানো নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান ২-১ করেন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এর ঠিক ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর মন্টিয়েলের পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার এক শটে বল জালে জড়ান স্বয়ং অধিনায়ক মেসি। বিশ্বকাপে এটি তাঁর ২১তম এবং চলতি আসরের ৮ম গোল।
ম্যাচের রোমাঞ্চ তখনো বাকি ছিল। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের চমৎকার ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে মিসরের জালে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন এনজো ফার্নান্দেজ। অবিশ্বাস্য এই জয়ে মিসর যেমন জয়ের খুব কাছে গিয়েও ট্র্যাজিক হিরো হয়ে মাঠ ছাড়ে, তেমনি আর্জেন্টিনা প্রমাণ করল কেন তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই তাই আনন্দের অশ্রুতে ভাসলেন মেসি, যা মাঠের লাখো ভক্তকে মনে করিয়ে দিল—চ্যাম্পিয়নরা কখনো হাল ছাড়ে না।












