সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছেন চার কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ। ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে টানা ছয় দিনব্যাপী চলমান এই নজিরবিহীন শোক মিছিল ও জানাজাকে মানব ইতিহাসের এ যাবৎকালের বৃহত্তম জনসমাগম হিসেবে দাবি করছে ইরান কর্তৃপক্ষ।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ৪ কোটি ১০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এ শোকযাত্রাকে ‘বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শোকযাত্রা’ বলে উল্লেখ করেছে। তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদ—এই পাঁচ শহরে জানাজা ও দাফনসংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদ এই পাঁচ শহরে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক বিদায় ও দাফন প্রক্রিয়া। এর মধ্যে কেবল ইরাকের নাজাফ ও কারবালাতেই প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সন্ত্রাসী হামলায় সপরিবারে এই মহান নেতা শাহাদাতবরণ করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত শুক্রবার থেকে শুরু হয় তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা, যেখানে বিশ্বের ৪৫টিরও বেশি দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ৯০টিরও বেশি দেশের পণ্ডিত ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রযুক্তিগত তথ্য ও স্বাধীন বিভিন্ন সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, যাতায়াতের রেকর্ড ও মোবাইল সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে এই বিশাল উপস্থিতির সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।