সারাদেশে বারিবর্ষন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একদিকে প্রশাসনিক নির্দেশনা দিচ্ছেন, অন্যদিকে দলের নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ’ শিরোনামে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত মানবিক ও কার্যকর নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্যোগকবলিত এলাকায় এক হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

ত্রাণ সহায়তার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার জন্য দুই কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং তিন হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, শিশুখাদ্য এবং প্রতিদিন তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ভারী বর্ষণে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ প্রায় পাঁচ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।