বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের চার জেলা, সিলেট বিভাগের দুই জেলা ও উত্তরাঞ্চলের দুই জেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
শুধু কক্সবাজারেই সাত দিনে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। কক্সবাজারের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে একজন এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে তিন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়ায় বানের পানিতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। গত পাঁচ দিন ধরে পানিবন্দি রয়েছে চট্টগ্রামের অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে। হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মুহুরী, ফেনী ও সেলোনিয়া নদীর পানি সমতলে হ্রাস পেয়েছে।
ফেনী ও খাগড়াছড়ি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে। উজানে বৃষ্টি কমে আসায় সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে গতকাল শুক্রবার ৪৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে গতকাল বিপত্সীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল।
মাতামুহুরী নদী লামা পয়েন্টে ১০৭ সেমি কমে বিপত্সীমার ৪৭ সেমি ওপরে এবং চিরিংগা পয়েন্টে ১৭ সেমি কমে বিপত্সীমার ৩২ সেমি ওপর দিয়ে বইছিল। কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে টানা ও উজানের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতে দেশে নদ-নদীর পানি বেড়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে কিছুটা উন্নতির আশা থাকলেও সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে। মনু নদী মৌলভীবাজারে ২৫ সেমি বেড়ে বিপত্সীমার ৮০ সেমি ওপরে গতকাল বিপত্সীমার ৩৫ সেমি ওপরে বইছিল। কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে ৭ সেমি বেড়ে বিপত্সীমার ১৮ সেমি ওপরে এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২১ সেমি বেড়ে বিপত্সীমার ১০ সেমি ওপর দিয়ে বইছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতলে বেড়েছে। নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার তিস্তা নদীর পানি সমতলে বেড়ে কিছু স্থানে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে বইছিল। নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ও লঘুচাপের প্রভাবে আরো কয়েক দিন মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোনো কোনো জায়গায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।











