নাটক, উত্তেজনা আর বেলিংহ্যামের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে নরওয়ের বাধা টপকে সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে অনুষ্ঠিত জমজমাট কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ১৯৬৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।

নরওয়ে অবশ্য এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল। এটাই তাদের জন্য বড় এক অর্জন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের সে যাত্রা থামল।

তবে ম্যাচের শুরুটা ভিন্ন কথাই বলছিল। শুরুতেই এগিয়ে যায় নরওয়েই। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণে ওঠেন আলেক্সান্ডার শেলডারুপ। এরপর বক্সের বাম দিক থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন তিনি। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড কিছুই করতে পারেননি।

বিরতির একটু আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ এসেছিল তাদের সামনে। প্রতি আক্রমণে উঠে এসে আলেক্সান্ডার শরলথের সামনে সুযোগ ছিল ফাঁকায় দাঁড়ানো আর্লিং হালান্ডকে পাস বাড়ানোর। তিনি সে পাস না বাড়িয়ে নিজেই শটটা নিতে চেয়েছিলেন, এবং ব্যর্থ হন।

নরওয়ে তার খেসারতটা দেয় একটু পরই। বিরতির ঠিক আগে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের বাড়ানো বল ধরে বক্সে ওঠেন অ্যান্থনি গর্ডন। তিনি বল বাড়ান জুড বেলিংহামের দিকে। বেলিংহাম একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণভাবে বল জালে জড়ান। এর একটু আগে হ্যারি কেইনের একটি গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলের সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হলান্ডের একটি গোল ফাউলের কারণে ভিএআরে বাতিল হলে রক্ষা পায় ইংলিশরা। এরপর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৩ মিনিটে মর্গান রজার্সের শট নরওয়ে গোলকিপার পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে না পারলে, রিবাউন্ড থেকে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বেলিংহাম।

চলতি বিশ্বকাপে এটি বেলিংহামের ষষ্ঠ গোল, যা তাকে বিশ্বকাপে কিংবদন্তি পেলের সমান ৭ গোলের মাইলফলকে পৌঁছে দিয়েছে। এই হারের মাধ্যমে ৭ গোল করা হলান্ডের নরওয়ের বিদায় ঘটলেও ৮ গোল নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের লড়াকু জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।