দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি। রোববার (২৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, সরকার ক্রীড়াকে শুধু বিনোদন বা শরীরচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর মতে, খেলাধুলা মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তৈরি করতে সরকার ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। আটটি ইভেন্ট সফলভাবে শেষ হওয়ার পর ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রথম আসরের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের একটি কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের শৃঙ্খলা, অধ্যবসায়, নেতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহিষ্ণুতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। তাই একটি মানবিক ও ইতিবাচক সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই।
তিনি আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এ ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এমন একটি ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম ও যোগ্যতাই হবে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’-এ টেবিল টেনিস ও ভলিবল যুক্ত করা হবে। এতে ইভেন্টের সংখ্যা বেড়ে ১০-এ উন্নীত হবে। একই সঙ্গে আরও বেশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করতে অংশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা ১২-১৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০-১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
পোস্টের শেষে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে অংশ নেওয়া সব খুদে ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক, বিচারক, আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।












