তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, আমরা সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। আমাদের ওইরকম কোনো মানসিকতা নেই কাউকে বন্ধ করার, কাউকে থামিয়ে রাখার। এবং আমাদের সরকারের মানে উপর পর্যায় থেকেই এই ধরনের কোনো মানসিকতা আপনারা এই ৬ মাসে দেখতে পাননি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র বিশ্বাস করা আসলে মানসিকতার ব্যাপার। এটা কোনো সিস্টেমের ব্যাপার না। আমরা ১৭ বছর যেটা দেখেছি, সেই মানসিকতাটা ছিল না। সমালোচনা শোনার মানসিকতা ছিল না এবং সেই কারণেই হয়তো মনে করিয়ে দেওয়া হতো যে, টিভি চ্যানেল আমরা দিয়েছি, আমাদের পক্ষেই কথা বলতে হবে। গত ছয় মাসে আমাদের তরফ থেকে এবং প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এই ধরনের কোনো নির্দেশনা বা মানসিকতার কোনো বহিপ্রকাশ আমি নিশ্চিত আপনারা দেখতে পাননি।’

‘দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিনও বলেছি, আমরা কাউকে নিয়ন্ত্রণ করব না। আমরা কারও মুখ বন্ধ করে দেবো না। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা গণতন্ত্রের আরেকটা স্তম্ভ, আপনারা আছেন তাই আমরা এখানে আছি। আমরা আছি, তাই আপনারা আছেন। আমরা সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমাদের ওই মানসিকতা নেই কাউকে বন্ধ করার, কাউকে থামিয়ে রাখার,’ বলেন মন্ত্রী।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পরিচালনা প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে আলোচনার শুরুতেই সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচারের চেয়ে সংবাদ ও গঠনমূলক বিষয়বস্তুর ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কনসার্ট বন্ধের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই যে সরকার সহযোগিতা করে না, এমন নয়। হয়তো সেখানে নিরাপত্তার সমস্যা ছিল, বা অন্য কিছু ছিল, যেটা আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারব। মাঝে মাঝে কনসার্ট অন্যান্য ভিন্ন কারণেও বাতিল করা হয়। জরুরি না যে কারও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাতিল করা হয়েছে।’

‘এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে যদি আমরা দেখি যে, যেখানে এই ধরনের কোনো (নিরাপত্তা ঝুঁকি) কিছু হতে পারে, সিকিউরিটির আরও বেশি ক্রাইসিস হতে পারে…বাংলাদেশে কিন্তু অনেক কনসার্টই হচ্ছে এবং অনেক বড় বড় কনসার্ট হচ্ছে। আমাদের সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো মানসিকতা নেই যে, কালচারাল কোনো ব্যাপারে কোনো বাধা বা বিঘ্ন করা,’ বলেন তিনি।