ইউক্রেনে রুশ অভিযানের ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিশুরা সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। শিশুদের নিয়ে কাজ করা এই সংগঠনটির হিসেবে গত সাড়ে তিন মাসে ইউক্রেনের প্রতি ৩ টি শিশুর মধ্যে দু’জন বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মানবিক সহায়তা প্রয়োজন ৩ কোটির বেশি শিশুর। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছর আন্তর্জাতিক শিশু সুরক্ষা দিবস সাড়ম্বরে পালন করেনি ইউনিসেফ। বরং ইউক্রেনের শিশুদের রক্ষায় দেশটিতে রুশ হামলার শততম দিন তেসোরা জুন উপলক্ষে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

তেসরা জুন, ইউক্রেনে রুশ সেনা অভিযানের একশ’তম দিন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই সহিংসতা শিশুদের শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে শংকাজনক ঘটনা। ইউনিসেফ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত একশ’দিনে ইউক্রেনে প্রায় তিন কোটি শিশু এবং শরণার্থী সেবাদানকারী দেশগুলোতে প্রায় ২২ লাখ শিশু জরুরি মানবিক সংকটে পড়েছে। একইসময়ে দেশটিতে প্রতি তিনজন শিশুর মধ্যে দুইজন বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জানিয়েছে, ইউক্রেনের জনবহুল এলাকাগুলোতে রুশ হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে  প্রতিদিন গড়ে দুইজন শিশু নিহত ও চারজন আহত হচ্ছে।

তিন মাসেরও অধিক সময় ধরে চলে আসা এ হামলায় শিশুদের জন্য নির্মিত বেসামরিক অবকাঠামোগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ২৫৬টি শিশু হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে শতাধিক বিদ্যালয়।

সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা শিশুরা পারিবারিক বিচ্ছেদ, শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন শোষণসহ পাঁচারের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ। শিশুদের রক্ষা করতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। সেইসাথে বিস্ফোরক অস্ত্রের ব্যবহার এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়।

ইউক্রেন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেয়া শিশুদের সুরক্ষা, পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং শিক্ষাসহ মানবিক সহায়তা প্রদানের ওপর জোর দিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির তথ্যমতে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে এবং শরণার্থী শিবিরগুলোতে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তার জন্য প্রায় ৯৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন।