ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুব ভালো আলোচনা’ চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান বরাবরই এ ধরনের আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব ভালো আলোচনা করছি। তারা বিষয়টি স্বীকার করতে চায় না, কিন্তু আলোচনা চলছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি শুনছি, তারা খুব ভালো করছে। আমি মানুষ হত্যা করতে বা সবকিছু পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে চাই না। আমরা সেদিকেই এগোচ্ছিলাম। কিন্তু তারা আলোচনায় বসতে চেয়েছে, আর আমরা সেটাই করছি। আমার কাছে মনে হচ্ছে, বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’
ইরান যুদ্ধ ষষ্ঠ মাসে গড়ালেও এবং এখন পর্যন্ত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা সংঘাতের অবসান না হলেও ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান যে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল, সেটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে একটি সমঝোতা খুব শিগগিরই হতে পারে।
এদিকে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে ট্রাম্পের আগের হুমকির সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
অন্যদিকে, তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো হামলা চালালে ইরানও এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।
১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, বেসামরিক মানুষের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালায়। এরপর থেকে ইরান, ইসরায়েল ও লেবাননে চলমান হামলা-পাল্টা হামলায় হাজারো মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।












