জাতীয় নির্বাচনের মতো উপজেলা নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের ইচ্ছার কোন কর্নপাত করে না সরকার। তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই বিএনপি আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে না।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ধস নেমেছে, বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে। দ্রব্যমূল্যের দামে নিঃস্ব দেশের মানুষ। কিন্তু সরকার কোন কিছুতে কর্নপাত করছে না। তার নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার আর লুটপাটে ব্যস্ত।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিদেশী প্রভুদের খুশি করতেই ৭ই জানুয়ারি নির্বাচন করেছে সরকার। দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণে বাংলাদেশ আজ নতজানু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
এ নির্বাচনের না যাওয়ার কারণ হিসেবে আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, “শেখ হাসিনার অধীনে আপনারা নির্বাচন দেখেছেন এবং সেই নির্বাচনের ফলাফল, সেই নির্বাচনের প্রকৃতি, সেই নির্বাচনের নানা ধরন-আঙ্গিক নিশ্চয় ধারণ করা আছে আপনাদের নিজস্ব মোবাইলে বা আপনাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে।
“এ বিষয়ে আমরা আগেও বলেছি, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তার প্রমাণ আছে। শেখ হাসিনা যতই কথা বলুক, তিনি কোনোক্রমে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। জনগণের যে শক্তি, জনগণের ইচ্ছা, এটাতে তিনি বিশ্বাস করেন না। করে না বলেই আজকে দেশ-বিদেশে থেকে একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের যে দাবি জানানো হয়েছে, এটাতে তিনি কর্ণপাত না করে তিনি তার মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী এবং তাদের প্রভুদের সমর্থন নিয়ে তিনি একটি অদ্ভুত তামাশার নির্বাচন করেছে। মানুষের কাছে সেটি হয়েছে বর্জনীয়, মানুষের কাছে সেটি হয়েছে ঘৃণ্য।”
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, তাহসিনা রশদীর লুনা, কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম, আসাদুল করীম শাহিন, মনির হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, আমিনুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।