উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মুখোমুখি হয় গতবারের দুই ফাইনালিস্ট। শেষ আটে যেতে হলে অলরেডদের লিখতে হতো রূপকথা। সে সুযোগও এসেছিল বেশ কয়েকবার। অ্যানফিল্ডে ৫-২ গোলে জয়ের পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দ্বিতীয় লেগেও ক্লপের শিষ্যদের হারিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ফলে দুই লেগ মিলে ৬-২ ব্যবধানের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
ঘরের মাঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের তিনশতম ম্যাচ খেলতে নামে রিয়াল। সেই ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখল আনচেলত্তির শিষ্যরা। বার্নাব্যুতে সমানতালেই লড়েছিল দুইদল। বল দখলে প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্টদের থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিল মাদ্রিদ। প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ। শুধু জালের দেখা পায়নি কোনো দল। গোল শূন্য সমতাতেই বিরতিতে যায় দুইদল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রিয়ালের মুহুর্মুহু আক্রমণ ঠেকিয়ে লিভারপুলের ক্ষীণ আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখেন আলিসনই। তবে প্রতি আক্রমণে সুযোগ নষ্ট করেন সালাহ। স্বাভাবিক খেলা খেলতে না পারায় একবার তো নাচোর সঙ্গে প্রায় লেগেই গিয়েছিল মিশরীয় তারকার। রেফারি এসে না থামালে হয়তো আরও বাজে পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো।
লিভারপুলের রক্ষণে প্রবল চাপ তৈরি করা রিয়াল এগিয়ে যায় ৭৮ মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে কামাভিঙ্গার বাড়ানো বল ফন ডাইকের চ্যালেঞ্জের মুখে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি বেনজেমা। ছুটে গিয়ে বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। মনে হচ্ছিল নষ্ট হচ্ছে আরেকটি সুযোগ। কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে বক্সে পড়ে গেলেও ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার পাস বাড়ান বেনজেমাকে। ফরাসি ফরোয়ার্ড অনায়াসেই সারেন বাকি কাজটুকু। পরে ম্যাচের বাকি সময় আর গোলের দেখা না পেলে ১-০ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আনচেলত্তির শিষ্যরা।
লিভারপুলের জন্য ম্যাচটা আরেকটি দুঃখগাথা হয়ে গেলেও রিয়ালের জন্য মাইলফলক ছোঁয়ার রাতে জয়ে রাঙানোর। চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সফলতম দলটির এটি যে ৩০০তম ম্যাচ।
অন্যদিকে রাতের আরেক ম্যাচে জয় পেয়েছে ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলি। জার্মান ক্লাব ফ্রাঙ্কফুর্টকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে তারা। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন ভিক্টর ওসিমেন, আর বাকি গোলটি করেছেন জিলিনিস্কি। প্রথম লেগে ২-০ গোলে জয় পেয়েছিল নাপোলি।